বাবরী মসজিদ নিয়ে বিজেপি নেতাদের উগ্রতা, মামলা করবেন মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল

0

টাইমস্ বাংলা ওয়েব ডেস্ক : বিজেপি, আরএসএস বক্তাদের তীব্র সমালোচনা করলেন অল ইণ্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান, সাংসদ এবং জমিয়তে উলামা সোবা আসামের সেক্রেটারি মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল কাসেমী।

অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ এবং রাম মন্দির ইস্যুতে বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যেই মূলত কঠোর সমালোচনা করেছেন মাওলানা আজমল। তাদের বিরুদ্ধে আদালতেও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কেননা অযোদ্ধায় রামমন্দির ও বাবরী মসজিদ ইস্যুতে বিজেপি ও আরএসএস নেতাদের এমনসব বক্তব্য স্পষ্ট আদালতের অপমান ও অবমাননা। তাদের এমন বক্তব্যে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও ঐক্য বিনষ্ট হচ্ছে। উস্কানিমূলক এসব বক্তব্যে শুধু উগ্রতাই ছড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে হিন্দের এই কেন্দ্রীয় নেতা।

বদরুদ্দীন আজমল বলেন, যখন বিষয়টা পুরোপুরিই আদালত দেখছে। আর মুসলমানরা বারবার বলছে আদালত যে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা তা গ্রহণ করবো। তাহলে এমন স্থির পরিস্থিতে হঠাৎ করেই আরএসএস আর বিজেপি লিডারদের অস্বস্তি কেন? কেন তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এখন। এখন তো মনে হচ্ছে, তাদের নিজেদের ভীতই দুর্বল হয়ে গেছে৷ তারা বুঝে গেছে তারা আদালতের কাছে তাদের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পেশ করতে অক্ষম।

মাওলানা আরও বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় মামলা। এ বিষয়টি নিয়ে তারা যেসব আচরণ করছে এবং হম্বিতম্বি করে দলবদ্ধভাবে যেভাবে তাদের আক্রোস প্রকাশ করছে তা রাষ্ট্রের জন্য খুবই ভয়ংকর।

বদরুদ্দীন আজমল বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দেখেছি তৃণমূল বা ছোটছোট নেতারা অযোদ্ধা নিয়ে সহিংস বক্তব্য উগ্রে দিত৷ কিন্ত এখন তো দেখছি বিজেপি, আরএসএসের বড় বড় নেতা এবং স্বয়ং মন্ত্রী পরিষদ থেকেও এ ব্যাপারে উস্কানিমূলক বক্তব্য আসছে৷ এদের কেউ কেউ আবার রাষ্ট্রীয় আইন পরিষদ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। (তাদের অবশ্যই এসব বিষয় জানার কথা, এসব রাষ্ট্রীয় মামলা ও বিবাদপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কথা বলার একটা নিয়মকানুন আছে, রুলস আছে) তারা সেইসব ভুলে গিয়ে যেভাবে ইচ্ছেমতো বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছে, তা খুবই ভীতিকর। তারা নতুন করে অযোদ্ধায় রাম মন্দির নির্মাণের ইতিহাস রচনা করছে।

মাওলানা বলেন, এর দ্বারাই প্রমাণিত হলো, বিজেপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের অকৃতকার্যতা বুঝতে পেরেছেন। কারণ বিগত নির্বাচনে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেসব পূরণ করা তো দূরের কথা দেশকে আরো ডুবিয়েছে তারা। দেশের শাসন ও আইনব্যবস্থা যাচ্ছেতাই
করে দিয়েছে। জনগণের সাথেও বাজে আচরণ করছে। রাষ্ট্রের অভিভাবক পদে বসে এভাবে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো দেশের জন্য কখনোই সুখকর নয়।