মাধ্যমিক,উচ্চমাধ্যমিকের উত্তরপত্রে কেন পরীক্ষার্থীদের নাম লিখতে হবে, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষাবিদদের একাংশ

0

বিশেষ প্রতিবেদন,টাইমস বাংলা: বছরের পর বছর রাজ্যে হচ্ছে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী জীবনের এই বড় দুই পরীক্ষা পাশ করে জীবনে প্রতিষ্ঠার পথে পা বাড়াচ্ছে। কিন্তু উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে যারা এই পরীক্ষাগুলি দিচ্ছে বছরের পর বছর কেন তাদের পরিচয় জানাতে বাধ্য করা হচ্ছে ? যেখানে আইসিএসসি, আইএসসি, সিবিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষাতেও উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ করতে হয় না, সেখানে কেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ আয়োজিত এই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নাম প্রকাশে বাধ্য করা হয়, সম্প্রতি এই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের শিক্ষাবিদদের একাংশ।

আমাদের দেশে নানা ধর্মের, বর্ণের, জাতের মানুষ বাস করে। কিন্তু একজন পরীক্ষার্থীর পরিচয় তিনি শুধু একজন পরীক্ষার্থী। তার নাম, ধর্ম এটা বড় কথা নয়। কিন্তু নাম প্রকাশের পরীক্ষার্থীরা নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এমন অভিযোগ করছেন কেউ কেউ। এতে সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারা লংঘিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন তাদের একাংশ।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর মহম্মদ আফসার আলির বক্তব্য , ” কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পরীক্ষা, পশ্চমবঙ্গ মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে সিবিএসসি ও আইসিএসসি পরীক্ষাতেও পরীক্ষক পরীক্ষার্থীর নাম জানতে পারেন না । সিবিএসসি ও আইসিএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষাপত্রের উপরের পাতাটি মাঝখানে উল্লম্বভাবে ۔۔۔۔۔۔۔ ডট লাইন দিয়ে কাটা কাটা থাকে, ডট লাইনের বাম ও ডান – দুই দিকেই পরীক্ষার্থীকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রোল নম্বর লিখতে হয়। কিন্তু পরীক্ষার্থীর নাম শুধু ডট লাইনের ডান দিকের অংশেই লিখতে হয় – বাম দিকে নয় । পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র পাঠানোর আগে ডট লাইনের ডান দিকের অংশ যেটাতে পরীক্ষার্থীর নাম আছে সেটা ছিড়ে রেখে দেওয়া হয়। অর্থাৎ পরীক্ষকের কাছে পরীক্ষার্থীর নামের অংশটি পাঠানো হয় না । ডট লাইনের বাম দিকের অংশটিতে থাকা শুধু রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রোল নম্বর এর অংশটি সহ উত্তরপত্রটি পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে উত্তরপত্রে নাম লিখতে হয় এবং পরীক্ষক পরীক্ষার্থীর নাম সহ উত্তরপত্র পান ! – এর ফলে বহু পরীক্ষার্থীকে জাতিগত, ধর্মগত, লিঙ্গগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যেটা ভারতীয় সংবিধানের ১৫ নম্বর ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী । এর প্রতিকার অবশ্যই হওয়া দরকার।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের উপরেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের দিশা ঠিক হয়ে যায়। আর সেটা হয় খুব কম দুই বা এক নম্বরের পার্থক্যের জন্যই । এইভাবে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে বৈষম্যকারী মানসিকতার শিকার করে গোড়া থেকেই পিছিয়ে রাখা হয় । তাই বিষয়টি খুবই ক্ষতিকারক । তাই ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে শিক্ষার অধিকারের স্বার্থে অবিলম্বে এই দুই পরীক্ষায় নাম প্রকাশের নিয়ম বাতিল করা উচিত।”