আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবসে আমরা কতটা সচেতন হলাম?

0

মহম্মদ ঘোরী শাহ: ’দুর্নীতি’- বর্তমান বিশ্বের আর পাঁচটা জলন্ত সমস্যার মত একটি মানবজাতির বুকে চেপেধরা জগদ্দল পাথরের মতোই একটি সমস্যা। এতে পরিবার,সমাজ এবং রাষ্ট্র কুৎসিত রূপ ধারণ করতে পারে।আর দুর্নীতির জন্য জন্ম নেয় বৈষম্য,ক্ষোভ এবং প্রতিহিংসার মত মারাত্মক অবস্থা এবং প্রবৃত্তি। জাতীসংঘ ২০০৩ সালে রাষ্ট্রীয় স্তরের দুর্নীতিকে বেশি মারাত্ম বলে চিহ্নিত করে।এই সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী দুর্নীতি হল ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অবৈধ ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ব্যবহার করা।জাতিসংঘ কয়েকটি সূচকের ভিত্তি বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের উপর সমীক্ষা চালায় এবং তাতে যে পরিস্থিতির বহিপ্রকাশ ঘটে তার উপর ভিত্তি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং সরব হওয়া আশু প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
এ লক্ষ্যে জাতীসংঘ ৯ই ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস হিসাবে ঘোষনা করে ২০০৩ সালে।সেই থেকে দুনীতি বিরুদ্ধে মানবজাতিকে সচেতন করতে এই দিবস পালিত হয়ে অাসছে।২০১৮সালের এই দিবসের লক্ষ্যে জাতীসংঘের মহাসচবি এ্যান্তানিয় গুতেরাস তাঁর ট্যুইট বারতায় বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির প্রসার এবং এর জনজাগরনের উপর গুরুত্ব দিলেন।তিনি বার্তায় বলেছেন, Corruption is present in all countries, robbing societies of schools, hospitals and other vital services. On the International Anti-corruption Day,let us take a stand for integrity.
সুতরাং দুর্নীতি একটা মহামারী ব্যধি স্বরূপ যা মানবজীবনকে ক্রমাগত গ্রাস করে ফেলছে একথা সত্য।আর এইব্যাধির উৎসের কেন্দ্রভুমিতে আছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব।ক্ষমতার অপপ্রয়োগই বিধিবদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সমস্যা। এই সমস্যা থেকে ভারত মুক্ত নয়।জাতীসংঘের সুচক ভিত্তিক সমীক্ষায় ভারতের অবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়।২০১১ সালে ভারতে আনুষ্ঠানিক ভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুভমেন্ট শুরু হয়।তৈরী হয় এর আগে THE PREVENTION OF CORRUPTION ACT,1988.তবুও পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্টের দিকে তাকালে এর উপস্থিতি আমরা হাড়েহাড়ে টের পাই।তাই তো শুনতে হয়,টু জি,কোলগেট,বোফোর্স ও রাফায়েল নামক দুর্নীতির কথা।
এমতোবস্থায় দাঁড়িয়ে এইদিনে আমরা জাতিসংঘেরর হুশিয়ারী স্মরণ করলাম কই? ক’টাই বা সভা সমিতি অনুষ্ঠিত হল সমগ্র ভারত জুড়ে? যেহেতু সমস্ত দুর্নীতির উৎসমূলে রহেছে রাজনৈতিক ক্ষমতা তাই আমরা কি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছি?