প্রান্তিক সমাজের জন্য ঐতিহাসিক দিন হতে যাচ্ছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি 

0
al ameen mission

বিশেষ প্রতিবেদন, টাইমস বাংলাঃ ১৯৪৭ সালে দেশ-ভাগ তথা বাংলা-ভাগ হওয়ার ফলে এপার বাংলার মুসলিম সমাজের প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত ও এগিয়ে থাকা অংশ ওপার বাংলায় চলে যায়। এখানে মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন প্রান্তিক চাষি, কারিগর ও শ্রমজীবী প্রমুখ অধিকাংশজন। সমাজ তথা রাজ্যে শিক্ষা-দীক্ষাহীন বিশাল এই জনগোষ্ঠীর ভূমিকা তখন ছিল প্রায় শূন্য। সাক্ষরতার হার ছিল খুবই সামান্য এবং চাকরি বা উচ্চ শিক্ষায় এই সমাজের অংশগ্রহণ ছিল না বললেই চলে। সমাজের উন্নয়নে তখনও দেখা মেলেনি কোনো আশার আলো। শুধু ঝরিয়েছে শরীরের ঘাম ও চোখের জল আর সহ্য করেছে মাঝে মধ্যে আধবেলা আধপেট খাওয়ার অব্যক্ত যন্ত্রণা। শুধু খাদ্যের সমস্যা নিরসন হলেই হবে না, শিক্ষার মাধ্যমে মেরুদণ্ড সোজা করা ও মানব সম্পদের বিকাশ ঘটানোও জরুরি। মানব সম্পদ-ই একমাত্র পারবে অন্ধকার সমাজকে আলোর দিশা দিতে।

উল্লেখ্য, আশির দশকে এই ভাবনার সঠিক ও সফল প্রয়োগকারীর অন্যতম আল-আমীন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব এম নুরুল ইসলাম সাহেব ও তাঁর সহযোগীবৃন্দ। নুরুল ইসলাম সাহেব তাঁর সঠিক চিন্তা ও পরিকল্পনা দিয়ে ১৯৮৬ সালে হাওড়ার খলতপুর গ্রামে মাত্র ৭-জন ছাত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আল-আমীন মিশন। আজ আল-আমীন মিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের নানা স্থানে ৭০-টির বেশি আবাসিক শাখা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ছায়াতলে হাজার-হাজার দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। অনেকেই রাজ্য ছাড়িয়ে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সরকারি আমলা, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক প্রমুখ হিসেবে সমাজ, রাজ্য ও দেশের সেবায় নিয়োজিত। আল-আমীনের উদ্দেশ্য মানব সম্পদের বিকাশ ঘটানো । যে সম্পদের বিকাশে জাতির মেরুদণ্ড সোজা হবে ও অসাম্যের অবসান ঘটবে। ফলস্বরূপ শ্রমিকের ঘরে ডাক্তার, হকারের ঘরে ইঞ্জিনিয়ার ও আইসক্রিম বিক্রেতার সন্তানের ডব্লিউবিসিএস অফিসার হওয়া সম্ভব। বৃহত্তর সমাজে এখনো দারিদ্রতা ও শিক্ষার অভাব বেশ লক্ষণীয়। সেই সমস্ত পিছিয়ে পড়া সমাজের কাছে আল-আমীন পর্যায়ক্রমে হাজির হতে আগ্রহী। আল-আমীন শিক্ষা-স্বাস্থ্য সহ পিছিয়ে পড়া সমাজকে পরিকল্পনামাফিক সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের দেওয়া কলকাতার নিউটাউনে প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে উচ্চস্তরীয় শিক্ষা, গবেষণা ও অনুশীলন কেন্দ্র ‘আল-আমীন মিশন ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’। এই ভবনের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে আগামী ১৭-ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার। সময় দুপুর ২ টো।

আল-আমীন মিশনের প্রাণপুরুষ এম নুরুল ইসলাম সাহেব বলেন, ‘’ পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘুদের জন্য ওই দিনটি হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক গর্বের দিন।‘’ তিনি আরও বলেন ‘’দীর্ঘ ৩২ বছরে আল-আমীন যতটুকু দিতে পেরেছে, আগামী ৩২ মাসে তার থেকেও বেশি দিতে পারবে ইনশাআল্লাহ্‌।“ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন সকলকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রনও জানিয়েছেন তিনি।

নিউটাউনের প্রস্তাবিত সেই ঐতিহাসিক ভবন:

Alameen Mission


Alameen Mission

আল-আমীন মিশন ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ভবনের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মাননীয় মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য পক্রিয়াকরন ও উদ্যান দপ্তরের মন্ত্রী মাননীয় আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা, মাননীয় সাংসদ শ্রীমতী কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মাননীয় বিধায়ক শ্রী সব্যসাচী দত্ত, রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান ও মাননীয় সাংসদ নাদিমুল হক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের মাননীয় সচিব ডা. পি বি সেলিম, আইএএস। এই উজ্জ্বল মুহূর্তটি রাজ্যের জনগণ বিশেষকরে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিভাত হবে বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আল-আমীন পরিবার সহ বাংলার সমস্ত পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষেরও।

নিউটাউনের প্রস্তাবিত সেই ঐতিহাসিক ভবন:

Alameen Mission


Alameen Mission


হতদরিদ্র ঘরের সন্তানদের অকপট স্বীকারোক্তি: মিশন ছিলো বলেই ডাক্তারী পড়তে পারছি


Al-Ameen Utsav 2019 | যে বক্তব্য আপনার জীবন বদলে দিতে পারে | Prof. Ujjwal K Chowdhury| Pearl Academy



আল-আমিন মিশনকে নিয়ে হৃদয় কাড়া একটি গান, না দেখলে মিস করবেন