আল-আমীন মিশন ডাক্তার, আইএস, আইপিএস হওয়ার স্বপ্ন দেখায় আফ্রিদির মতো হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদেরকে

0

বিশেষ প্রতিবেদন, টাইমস্ বাংলা : দারিদ্রের সঙ্গে একেবারে গা ঘেঁসে বাস করে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান সম্পর্কিত অসংখ্য ‘না’…।কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে থাকে একটা খুব বড় ‘হা’…। বিজ্ঞান এবং তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে এ নিয়ে কোনও গবেষণা হয়েছে কিনা জানা নেই, এর কোনও যৌক্তিক, গানিতিক বিশ্লেষণ সম্ভব কিনা সেটিও জানা নেই। আসুন, এরকমই এক ‘না-হা’-র কাহিনী শুনি।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:

Alameen Mission

Alameen Mission

নাম আফ্রিদি মামুদ। উত্তর ২৪ পরগণার বাদুড়িয়া থানার খুব খুশবুদার গ্রাম লবঙ্গ-এর এক কিশোর। আব্বা মোসারফ হোসেন মামুদ এবং আম্মা রেহানা বিবি। এছাড়াও আট বছরের এক বোন আলিশা মামুদ। গৃহবধূ মা এবং বাবা ইট ভাটার কর্মী এবং কাজ না পেলে মানুষের শেষ আশ্রয় একমাত্র সুনিশ্চিত কাজ দিন-মজুরী।

গ্রামের শিশু শিক্ষাকেন্দ্র হয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে শিভাতি হাই স্কুলে ভর্তি হয় শিশু আফ্রিদি। প্রথম দু-এক বছর পরে সপ্তম শ্রেণি থেকেই ক্লাসে স্যার তার নাম প্রথমেই ডাকে এবং এখন দ্বিতীয় স্থানে এক সহপাঠিনী মৌমিতা…। এর আগে পাহাড় প্রমাণ ‘না’-এর জন্য বেশ কয়েকবার ইচ্ছের বুদ্বুদ নিমেষেই মিইয়ে গেছে…। কিন্তু এবছর তার আব্বা-মা, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রচেষ্টায় আফ্রিদি মিশনের প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসে।

এবং পাশ করে। কয়েকদিন আগে তারা সবাই তাদের পুরো ‘না’ ও একমাত্র ‘হা’-কে সঙ্গে নিয়ে খলতপুরে হাজির। অসংখ্য গাড়ী, পালিশ করা মুখ ও রং বেরঙের পোশাকের মাঝে তাদের গ্রামীণ সহজ সরল প্রাণিত মুখ লুকোচুরি খেলতে শুরু করে। অচেনা অজানা নানা কল্পনার পাহাড় তাদের মাথায় না চাইলেও ভিড় জমায়। শুরু হয় অপেক্ষা এবং ধৈর্যের সঙ্গে ইন্টারভিউ-এ কী হবে সে নিয়ে দুশ্চিন্তা।

এদিকে আফ্রিদি রঙিন প্রজাপতির মতো মিশনের বাগান ও বিশাল খোলা মাঠে দম খুলে ডানা মেলেছে। অসংখ্য পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকের মেলায় সে দেখছে মিশনের ছাত্ররা নেভি ব্লু প্যান্ট ও আসমানি রঙের শার্ট পরে ক্লাস করছে। তার মনও চাইছে সেও এখুনি তাদের পাশে বসে ক্লাস শুরু করে দিক…। সেও হয়ে যাক আল-আমীন মিশনের ছাত্র…।

Al-Ameen Mission, Khalatpur, TiMES Bangla

অবশেষে সেই চরম সময় হাজির। আব্বা, মা এবং আফ্রিদি মিশনের সেক্রেটারির ঘরে…। শুরু হয় আলাপন। ধীরে ধীরে আশংকার মেঘ দূর হতে থাকে এবং জ্যোৎস্না জায়গা দখল করে নেয়। অসংখ্য ‘না’ যাদের নিত্য সঙ্গী তাদেরই ঘরে এক অতি মহার্ঘ ‘হা’ নিয়ে আফ্রিদি দুনিয়ায় এসেছে। যখন তারা জানতে পারল মিশনের এবছরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৮০০০-এর বেশি ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বসেছিল ২৯২৫ জন ছেলে মেয়ে।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:

Alameen Mission

Alameen Mission

এই এতজনের মধ্যেও তাদেরই আফ্রিদির রোল হয়েছে এক অর্থাৎ আফ্রিদি হয়েছে এক্কেবারে প্রথম। অশ্রু এমন এক বস্তু যা বিষাদে আপসেই চোখকে ঝাপসা করে দেয়, কিন্তু আনন্দও মাঝে মাঝে অশ্রু ডেকে আনে। আফ্রিদির আব্বা-মা-র চোখে সেদিন ছিল পাহাড় প্রমাণ ‘না’-এর নয়, একমাত্র ‘হা’-এর অশ্রু।

এরপর যা হওয়ার তাই হল…। মিশনের সাধারণ সম্পাদক শুধু এটুকুই বললেন, আফ্রিদি আজ থেকে আপনাদের পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে আল-আমীন পরিবারেরও। আমাদের পরিবার শুধু পড়াশোনা নয়, তার সবকিছুই বহন করবে…। আর একটা কথা, ফর্মে লেখা Afridi Mamud-এর আগে সেক্রেটারি স্যার নিজ হাতে লিখে দিলেন Dr. অর্থাৎ Dr. Afridi Mamud.

আফ্রিদিকে যখন জিজ্ঞাসা করলাম মিশন নিয়ে, সে বলল মিশনের পরিবেশ দেখে আমি খুব উৎসাহী এবং সেক্রেটারি স্যারের সঙ্গে কথা বলে খুব ভালো লেগেছে। আরও বলল, সেক্রেটারি স্যার বলেছেন, মাধ্যমিকে আমাকে মিশনের মধ্যে প্রথম এবং রাজ্যে এক থেকে দশের মধ্যে থাকতে হবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি পারবে ? তার এক ছোট উত্তর, ইনশাআল্লাহ্‌।

প্রিয় বিষয় তার গণিত। কেন প্রশ্ন করাতে, তার জবাবঃ ‘অংকের মধ্যে রস আছে, যতই অঙ্ক করা হবে ততই ভালো লাগবে। তখন মনে হবে খেলাধুলা না-করলেও চলছে।’ পুরনো স্কুলের সাথীদের ছেড়ে আসতে তার কষ্ট হবে জানাল এবং হাসতে হাসতে বলল তার প্রিয় অভিনেতা উত্তম কুমার!

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:

Alameen Mission

Alameen Mission

সৌজন্যে ” ।।আল আমীন বার্তা ।।