আল আমীন মিশনের আর এক দুখুমিয়ার গল্প, যা আপনাকে নাড়িয়ে দেবে(ভিডিও সহ)

0

বিশেষ প্রতিবেদন : প্রশ্ন: তোমার প্রিয় লেখক/কবি?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন: কোন খেলা খেলতে তোমাকে ভাললাগে?
উ: ক্রিকেট।
প্রশ্ন: প্রিয় ক্রিকেটার ?
উ: রোহিত শর্মা।
প্রশ্ন: প্রিয় বিজ্ঞানী?
উ: নিউটন।
প্রশ্ন: কোন বিষয় বেশি ভাললাগে?
উ: বিজ্ঞান। কারণ পড়লে অনেক কিছুই জানতে পারি।
যেমন, হৃৎপিণ্ড সম্পর্কে পড়ে জানতে পারি এটি আমার শরীরের কোথায় আছে। কি কি কাজ করে।
প্রশ্ন: তোমার রাজ্যের কোন জিনিস ভালবাস।
উ: সবুজ গাছপালা।
প্রশ্ন: বড় হয়ে কি হতে চাও ?
উ: ডাক্তার, কারণ আমার মা-এর ইচ্ছা আমি যেন ডাক্তার হই।


TiMES Bangla
আসুন, বিজ্ঞান ও নিউটন-প্রেমী কিশোরের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করি। কলকাতা থেকে সরলরেখায় ভূখণ্ডটির দূরত্ব প্রায় ৪০০ কিমি। রাজ্য ত্রিপুরা, জেলা সেপাহীজলা, থানা সোনামুড়া, ডাক খেদাবাড়ি এবং গ্রাম জালাইবাড়ি। এই গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী খালেক মিয়া-র এক ছেলে ও এক মেয়ে। স্ত্রী ফাতেমা খাতুন ও খালেক মিয়া টালির চাল ও মাটির এক সামান্য কুঁড়েঘরে দিনরাত জীবনের কঠিন লড়াই করেন। নিরক্ষর খালেক মিয়া দিনমজুর নন ঠিকঠাক, মাঝেমধ্যে বন থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করেও চলে তাদের সংসার এবং বাচ্চাদের লালনপালন। কিন্তু একটা বিষয়ে তিনি বেশ চালাক। তাঁরা নিজেরা স্কুলের ভালোবাসা না পেলেও ছোট থেকেই নিজের সন্তানদের নিয়মিত স্কুল পাঠাতে ভুলে যাননি। তাঁদেরই বড় ছেলে লাতিফ মিয়াঁ, যার প্রিয় কবি দুখুমিয়া অর্থাৎ কাজী নজরুল ইসলাম।

ত্রিপুরাতেও আল আমীন মিশন এর হাত ধরে উঠে আসবে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা আশাবাদী মিশনের সেক্রেটারি জনাব নুরুল ইসলাম

জালাইবাড়ি এস বি স্কুলের ক্লাস সেভেনের ছাত্র লাতিফ। এ-বছর এইটে উঠেছে। মেধাবী লাতিফ স্কুলের ফাস্ট বয়, সেকেন্ড হয়েছে গার্ল ফিনহাজ আকতার। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধীকারীর মধ্যে নম্বরের ব্যবধান ৬১। লাতিফ পেয়েছে মোট ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৫২৫ অর্থাৎ ৮৭.৫% এবং ফিনহাজ ৪৬৪। মেরিট এমন এক বস্তু সে কখন কোথায় বাসা বাঁধে তার দিশা পাওয়া খুবই মুশকিল। ঠিক যেভাবে লাতিফের ক্ষেত্রে ঘটল। অর্থ বা অন্য কিছু যাদের সবকিছুই একেবারে খালি, নিঃস্ব, তাঁদের ঘরেই ললাটে মেধার চিহ্ন লাগিয়ে লাতিফ হাজির।

আল আমীন মিশনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:
Alameen Mission


Alameen Mission

গত ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। স্থান, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে সাতাশ কিমি দূরে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সোনামুড়া মহকুমার অন্তর্গত ব্লক-শহর বক্সানগর। এখানেই আল-আমীনের ৫১-তম শাখার প্রতিষ্ঠা হয়। নবম ও দশম শ্রেণির মাত্র ২৫ জন পড়ুয়া নিয়ে শুরু হয় এই অভিযান। এই শুভ অনুষ্ঠানে মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম নুরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেছিলেন, ভাড়া বাড়িতে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই শাখাও ত্রিপুরার মেধাবী ছাত্রদের জন্য এক আদর্শ লালনাগার হয়ে উঠবে। বর্তমানে এখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি তক পড়াশোনা হচ্ছে। গত ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যথাক্রমে ৭ ও ১১ জন ত্রিপুরা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০১৮-এর পরীক্ষার্থী মামুনুর রহমান বক্সানগর বিধানসভা এলাকার ১৩-টি স্কুলের মধ্যে প্রথম হয়ে প্রমাণ করেছে, মিশনের মেধা-চর্চার ধারা ত্রিপুরাতে সম্ভব। মামুনুর এখন আমাদের রাজ্যে মিশনের মেমারি শাখায় বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত।

আল আমীন মিশনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:

Alameen Mission


Alameen Mission

৩ জানুয়ারি ২০১৯। স্থান, আল-আমীন মিশন একাডেমি, বক্সানগর। ২০১৯ বর্ষে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল পড়ুয়াদের অভিভাবক-সহ ইন্টারভিউ চলছে। গত ১৬ ডিসেম্বর ত্রিপুরা রাজ্যের চার সেন্টারে বক্সানগর শাখায় ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই এসেছেন। লাতিফও তার আব্বা ও মা-কে নিয়ে হাজির। সে এইটে ভর্তির জন্য পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে। যেদিন রেজাল্ট বেরিয়েছে সেদিন তার খুশি আর ধরে না…। কিন্তু তার আব্বা-মা সেই আনন্দে ছেলের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে মিশে গেলেও, হৃদয়ের ভেতরে আনন্দের উত্তাপ পাননি। শুধুই বারবার একই ছবি তাদের সামনে চলে আসে, আদরের লাতিফ আল-আমীনে ভর্তি হতে পারবে তো!

আল আমীন মিশনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:
Alameen Mission


Alameen Mission

একেক জন ইন্টারভিউ দিয়ে হাসি মুখে বেরোয়, আর খালেক মিয়া ও তার সহধর্মিণী সচকিত হন এবার তাদের ডাক পড়ল বলে। এভাবেই তাঁরা একেবারে সেক্রেটারি স্যারের কাছে চলে আসেন। জানিনা, গরিবিয়ানার সঙ্গে মানুষের আচার-ব্যবহারের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, কিন্তু এটা আমরা সবাই জানি অর্থ-হীনদের নিত্য সঙ্গী আশাহত হওয়া এবং শেষে চোখ দিয়ে বারিধারার নির্গমন। স্যারের সামনে তাঁরা তাদের স্বাভাবিক নিঃস্বতাকে গাঁয়ে জড়িয়েই হাজির। কিন্তু হৃদয় একেবারে উথাল-পাতাল, কী হবে বা হতে যাচ্ছে। লাতিফের জন্য শূন্য হাতে এসে কেবলই হাহাকার নিয়ে ফিরে যেতে হবে না তো? কথাবার্তা শুরু হয় এবং তাঁদের মন থেকে একে একে খসে পড়তে শুরু করে চিন্তার জমাট মেঘ। সেক্রেটারি স্যার… লাতিফকে কাছে টেনে নেন এবং তাঁর আব্বা-মাকে জানান শুধু এখানে পড়াশোনা নয়, বই-খাতা-জামা-কাপড় সবই মিশন দেবে। আপনারা শুধু দোওয়া করবেন… অবশ্যই আপনাদের জানের টুকরা লাতিফের সঙ্গে সঙ্গে মিশনের জন্যও। আরও বললেন, লাতিফ শুধু মেধাবী নয়, সে এক হীরের টুকরা…। অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ১৮ জনের মধ্যে সে ফাস্ট হয়েছে…। স্যার লাতিফকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কী হতে চাও? সে সটান বলে, ডাক্তার…। স্যার বলেন ইনশা আল্লাহ্‌ তুমি একজন ডাক্তার হবে…। এবং অভ্যাসবশত ভর্তির ফর্মে তার নামের আগে Dr. লিখে দেন। এসব দেখে শুনে জালাইবাড়ির খালেক মিয়াঁ ও ফাতেমা খাতুনের চোখ ছলছল করেছিল কিনা জানিনা, কিন্তু প্রাণ খুশিতে কেঁদেছিল নিশ্চয়!

আল আমীন মিশনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ (বিজ্ঞান) শ্রেণীর প্রবেশিকা পরীক্ষার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য এখুনি এই লিঙ্কে ক্লিক করুন:
Alameen Mission


Alameen Mission

সৌজন্যে : Al Ameen Barta