আল আমীন নতুন কিছু ভাবে, নতুন কিছু করে; উঠে এল বার্তা আল আমীন উৎসব ২০১৯ এ(ভিডিও সহ)

0
al ameen mission
সহিদুর রহমান,টাইমস্ বাংলা, খলতপুর:  আল আমীন মিশন মানে স্বপ্ন দেখা, আল আমীন মানে গরিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন; আল আমীন মানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তৈরির কারখানা। এই সুনামধন্য মিশনটি হাওড়ার খলতপুর গ্রামের বুক জুড়ে অবস্থিত। ২৬ ও ২৭-এ জানুয়ারি মিশন মেতে উঠেছিল আল আমীন উৎসব ২০১৯-এ। যে তাৎপর্য্যপুর্ণ উৎসবটির উদ্বোধন ঘটেছে ২৬-শে জানুয়ারি অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন দুপুর ২ টায়। উৎসবে মেতে উঠেছে বর্তমান ও প্রাক্তন আল আমীন সদস্য অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। উৎসবের প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিভাবক- অবিভাবিকাগণও। উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘটে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে।

ছাত্রদের উদ্বোধনী সঙ্গীত

পতাকা উত্তোলন করেন উলুবেড়িয়া সাংসদ মোহতারামা সাজাদা আহমেদ। আল আমীনের এই উৎসব ভরে উঠেছে নক্ষত্র সমাগমে অর্থাৎ আল আমীনের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী যারা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার অথবা পাঠরত।  স্বাগত ভাষণ দেন আল আমীনের প্রাণপুরুষ অর্থাৎ মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম.নুরুল ইসলাম। নুরুল সাহেবের বক্তব্যে উঠে আসে আল আমীনের দীর্ঘ ৩৩ বছর অতিক্রমের পথ, এক মুঠো চালের ইতিহাস। কীভাবে আল আমীন দরিদ্র মেধাবী সন্তানদের নিজ হাতে দায়িত্ব নিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তার কথা। ২০১৮ তে আল আমীনের যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার-এ ভালো স্থান নিয়েছেন এবং মাধ্যমিকে ও উচ্চমাধ্যমিকে নজর কাড়া রেজাল্ট করেছে সেই সমস্ত কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাংসদ সাজাদা আহমেদ কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। এছাড়াও সাংসদের হাত দিয়ে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় আল আমীনের প্রাক্তন শিক্ষক অধ্যাপক মৃণালকান্তি দোয়ারি ও শ্রীদিলীপ কুমার কর্মকার কে।

আল-আমীন উৎসব ২০১৯, অধ্যাপক উজ্জ্বল কে চৌধুরীর যে বক্তব্য আপনার জীবন বদলে দিতে পারে…

সম্মাননা গ্রহণের পর অধ্যাপক মৃণালকান্তি দোয়ারি বলেন, ‘আমি প্রথম মিশনে এসেছিলাম পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের ইনভিজিলেটার হিসাবে, তার পর মিশনের সাথে নিজেকে সামিল করলাম।‘ তিনি আরও বলেন ‘আমি এখন পদার্থ বিজ্ঞানের বই লিখি আর লেখক পরিচিতিতে জুড়ে রাখি শিক্ষক আল আমীন মিশন।‘ উৎসবে উজ্জ্বলময় উপস্থিতি দিয়েছিলেন মৌমেন চক্রবর্তী ওসি উদয়নারায়ণপুর। তিনি বলেন, আমি কর্মক্ষেত্রে বাইরে যখন যায় তখন উদয়নারায়ণপুর পরিচয় হিসাবে সকলে এক কথায় আল আমীন মিশনের সুবাদে জানে। জনাব আব্দুস সালাম ডেপুটি ডিরেক্টর স্কুল এডুকেশন এই মঞ্চ থেকে বলেন, ‘ ২৬ শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস উৎযাপিত হয় কিন্তু আমি বলি সাধারণতন্ত্র দিবস। প্রজাতন্ত্র কথাটি আমি বলতে পছন্দ করি না, কারন প্রজার সঙ্গে রাজা কথা টি আসে।কিন্তু আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজা রাজত্বে।‘ তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ আমি বলব তোমাদের ফাইট করতে।জীবন হল ফাইট ফাইট ফাইট।‘ আল আমিনের টানে  রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রী দেবব্রত দাস তাঁর উপস্থিতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়নে সমাজে দু-ধরেনের মানুষের অবদান লক্ষ্য করা যায়, এক সমাজ সমস্কারক ও  দুই সমাজ সেবক ।‘ কিন্তু তিনি মিশনের সম্পাদক কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সাহেব সমাজের সমাজ সমস্কারক ও সমাজ সেবকের অভুত সমন্বয়। সমাপ্তি ভাষণ রেখেছিলেন সভার সভাপতি সেখ মহঃ হাসান সিউরি কলেজের গনিতের বিভাগীয় প্রধান। তিনি বলেন, ;সবথেকে বড় সম্পদ হল মানব সম্পদ, যে মানব সম্পদ বিকাশের কাজ আল আমীন করে।‘ এছাড়া তিনি আল আমিনের আগামী দিনের বার্তা দেন, বলেন সমাজের একটা বড় অংশ এখন বঞ্চিত তাঁদের কেউ শিক্ষার আঙিনায় নিয়ে আসতে হবে। আল আমীন মিশন শিক্ষাক্ষেত্রে সুনামধন্য কিন্তু শিক্ষার পাশাপাশি বৃহত্তর সমাজে মানুষের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেবে আল আমীন। এই স্বাস্থ্য পরিষেবা আমরা আলা আমীন খলতপুরে ক্ষুদ্র আকারে শুরু করেছি।

মেয়েদের সমাপ্তি সঙ্গীত

>