দরিদ্র মেধাবী নাজিয়ার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে পূরণ করতে সাহায্যের হাত বাড়াল আল আমীন মিশন

0
Al Amin Mission, helping to fill the desire to become a poor meritorious Nazi Doctor

টাইমস বাংলা নিউজডেস্ক : নাজিয়া খাতুন। মাধ্যমিকে ভালো ফল করা এক মেধাবী ছাত্রী। স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। কিন্তু হত দরিদ্র পরিবারে যা হয় আর কি। নিজের পড়াশুনো কে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার হওয়ার মত এত আর্থিক সামর্থ তাঁর বা তাঁর পরিবারের নেই। তাঁর আবেদন ছিল যেন তাঁর এই ইচ্ছেপূরণ করতে সরকার বা মিশন গুলো এগিয়ে আসে। তাই গত সোমবার নাজিয়া খাতুন ও তার মা রোকেয়া বেওয়া খলতপুর শাখার আল আমীন মিশনের সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেন। ঘটনা শোনার পর মোমিনটোলা সিনিয়র মাদ্রাসার দুস্থ এতিম মেধাবী এই ছাত্রী টির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আল আমীন মিশনের এই প্রাণপুরুষ নুরুল ইসলাম। তিনি ছাত্রী টিকে মুর্শিদাবাদের আল আমীন ভাবতা গার্লস শাখায় ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা দেন। নুরুল ইসলামের বক্তব্য, এতিম ছেলেমেয়েরাও উচ্চশিক্ষিত হয়ে মানুষের মত মানুষ হোক, সেই চেষ্টাই করে চলেছে আল আমীন মিশন। উল্লেখ্য, মিশন টি কোনো সরকারি সাহায্য পায় না।
হত দরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রী টি আল আমীন মিশনে সুযোগ পাওয়ায় আনন্দিত গ্রামবাসী রাও। প্রত্যন্ত ও দুর্গম এই এলাকার নবীন প্রজন্মের একাধিক মানুষের বক্তব্য, তাঁদের গ্রামের মেয়ে যখন আল আমীন এ পড়ার সুযোগ পেয়েছে তখন ও একদিন ডাক্তার হয়ে গ্রামে ফিরবে। বলা বাহুল্য, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রঘুনাথগঞ্জ থানার গিরিয়া অঞ্চলের মোমিনটোলায় এমনিতেই শিক্ষার হার অনেক কম, এবং সেই সঙ্গে কর্মহীনতার অভিশাপ এলাকার মানুষ কে আষ্টে পৃষ্টে বেঁধে রেখেছে।
নাজিয়ার মা রোকেয়া বেওয়া এদিন প্রতিবেদক কে জানান, মঙ্গলবার মেয়ে কে মিশনে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। অনাথ এই মেয়ে টিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি নুরুল ইসলাম কে অনেক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রোকেয়া বেওয়ার মত নুরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন মোমিনটোলা সিনিয়র মাদ্রাসার টিআইসি মুহাম্মদ রাজা বিশ্বাস।
নাজিয়া সম্পর্কে কিছু কথা : নাজিয়া যখন নয় মাসের, তখন তার বাবা কলকাতায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে তিনতলা থেকে পড়ে মারা যান। কিন্তু স্বামী নেয় তো কি, নিজে একাই মেয়ে কে উচ্চ শিক্ষিত করে বড় করে তোলার চেষ্টা করতে থাকেন। নাজিয়া তার মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে বৈকি। মাধ্যমিকে ৭৬% নম্বর পেয়ে পাস করেছে যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে বেশি ভালো ফল করেছে সে। সে এখন ডাক্তার হতে চায়। তাই একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিরআর্থিক প্রতিকুলতা কে কাটিয়ে উঠতে না পারায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন আল আমীন মিশনের প্রাণ পুরুষ নুরুল ইসলাম।