আসামের এনআরসি আসলেই মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করার হাতিয়ার

0
Assam's NRC is actually a tool to deport Muslims

★ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন প্রক্রিয়াটি অসমে আপডেটের নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট ২০১৩ সালে। চলতি বছরের আগষ্টের শেষে অসমের নাগরিকদের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়,এতে ১৯ লক্ষ মানুষ এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে।
★এর পর এনআরসিতে বাদপড়া অমুসলিমদের আশ্বস্ত করতে বিজেপি নেতৃবৃন্দ প্রচার করতে থাকে তাদের শরণার্থী হিসাবে চিহ্নিত করে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।বাদ বাকী অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, আপাতত তাদের স্থান ডিটোনেশন ক্যাম্পে।
★সম্প্রতি US COMMISSION ON INTERNATIONAL RELIGIOUS FREEDOM এর ‘ইস্যু ব্রিফ:ইন্ডিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে, অসমের এনআরসি বিশেষত মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করার চক্রান্ত মাত্র।

নিউজডেস্ক,টাইমস্ বাংলাঃ অসমের নাগরিক পূঞ্জীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এই প্রথম কোন বিদেশি সংস্থা তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করল।আমেরিকা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রীডম(USCIRF) একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অসমের এনআরসি নিয়ে।প্রতিবেদনের মূখ্য বিশ্লেষক হ্যারিসন আকিসন দেখিয়েছেন, অসমে বাঙালী মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে এবং তাদের রাষ্ট্রহীন করার উদ্দেশ্যেই বিজেপি সরকার এনআরসির কর্মসূচী গ্রহন করেছে।এই প্রতিবেদনে আরো অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৩১শে আগষ্ট অসমে নাগরিক পূঞ্জীকরণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরথেকে বিজেপি এমন সব পদক্ষেপ গ্রহন করছে যাতে মুসলিম বিরোধী পক্ষপাতই প্রকাশিত হয়েছে। বিজেপি ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য অাবশ্যসিক শর্ত হিসাবে হিন্দু ধর্মকে প্রাধান্য দিয়েছে। কৌশলে বিজেপি বাদপড়া হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুদের বাঁচানো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অপরদিকে মুসলিমদের সোজাসুজি ডিটোনেশন ক্যাম্পের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যদিও বিদেশ মন্ত্রক নাগরিক পূঞ্জীকরণের এই আপডেট প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও বৈজ্ঞানিক এবং আইনী প্রক্রিয়া বলেছে। বিদেশ মন্ত্রক থেকে আরো বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশিত নির্দেশনা মেনেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, এতে বৈষম্য, পক্ষপাতিত্ব ও অন্যায়ের কোন অবকাশ নেই।
তবুও অসমে নাগরিক পূঞ্জীকরণের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বিশাল সংখ্যক মুসলিম বাদ পড়েছে। তাদের আশঙ্কা বিজেপি সরকার যেন তেন প্রকারে অন্যদের নাগরিকত্বের ব্যবস্থা করে দেবে। ধর্মীয় কারণে তারাই বঞ্চিত হবে। ঠিক USCIRF তাদের প্রতিবেদনে যে তথ্যভিত্তিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।