বাবরি মসজিদ রায়কে স্বাগত জানালেও,সন্তুষ্ট নয় জামায়াতে ইসলামে হিন্দ, শান্তি বজায়ের আহবান

0

টাইমস বাংলা নিউজ ডেস্ক : বাবরী মসজিদ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় সামনে আসতেই রায়কে স্বাগত জানালেও, রায়ে সন্তুষ্ট নয় রাজ্যের জামায়াতে ইসলামে হিন্দ। তবে সব পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার জন্য ও প্রশাসনকে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছে তারা। রায় বেরোনোর পর শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে আব্দুর রফিক ও আমীরে হালকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন,
“বাবরী মসজিদ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ে বিতর্কিত জমি রামলালাকে প্রদান করা হয়েছে ও মুসলিমদের জন্য পাঁচ একর জমি দিতে বলা হয়েছে। আমরা এই রায়কে সম্মান জানাই। তবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই, মুসলিম পক্ষের সাথে ন্যায় করা হয়নি। রায়ে এটা স্পষ্ট যে, মসজিদের কাঠামো, কোন মন্দির ভেঙ্গে তৈরী হয়নি এবং সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হতো। তার পরেও তা রামলালাকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনাকাঙ্খিত ও ন্যায়ের পরিপন্থী । রায়ের কিছু দিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা দেশের সংবিধানকে শক্তিশালী করে ও তা আইন – শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের সকল জনসাধারণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছি। মুসলিম ভাইদেরকে আবেদন জানাচ্ছি তারা যেন ধৈর্য্য ধরেন ও পরিনত বুদ্ধির পরিচয় দেন। পরিস্থিতি যাই হোক, কোন ভাবেই যেন উত্তেজনার শিকার না হোন। বিরোধীদের প্ররোচনায় যেন পা না দেন। আমাদেরকে এ ইতমিনান রাখতে হবে যে, মুসলিম পক্ষ বাবরী মসজিদের বিষয়ে কোন ভাবেই ও কোন ক্ষেত্রেই দূর্বলতা দেখায় নি। মধ্যস্থতাকারীদের সাথে আলোচনার সময় মুসলিমরা খোলা মনে অংশগ্রহণ করেছিল। ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্য পেশ করার প্রয়োজন হলে প্রামান্য ঐতিহাসিক নথি ভরপুর পেশ করা হয়েছে। আদালতে আইনী লড়াই পরিচালনার সময় আত্মবিশ্বাসের সাথে বিশেষজ্ঞদের খেদমত নেওয়া হয়েছে ও তারা অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে বিচারপতিদের সামনে মুসলিম পক্ষের ওকালতি করেছেন। নথি পত্রের বিষয়ে কোন ধরনের কমজোরি রাখা হয়নি। আজকের দিনে কেউ এটা বলতে পারবে না যে মুসলিম পক্ষ বাবরী মসজিদ মুকাদ্দামায় কোন ধরনের কমজোরি দেখিয়েছে।
প্রত্যেক মন্দের মধ্যে ভালোর সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। এর থেকেও কোন না কোন উত্তম বিষয় বেরিয়ে আসবে। সর্বাবস্থায় ধৈর্য্য ধারণ করুন শৃঙ্খলা মেনে চলুন। আইনকে সম্মান করুন।
মুসলিমদের কাছে এটা স্পষ্ট থাকতে হবে যে বাবরী মসজিদ মামলায় হিন্দু ভাইদের একটি বড় অংশ মুসলিমদের সাথে ছিল, যারা উন্নত মানবিক মুল্যবোধে বিশ্বাস রাখেন। তাদের সবার এটা আকাঙ্খা যে, মুসলিমরা পূর্বের ন্যায় পরিনত বুদ্ধির পরিচয় দেবে। কোন ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করবে না। দেশের বুদ্ধিজীবী, সমাজ কর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বৃহৎ অংশ সত্য ও ন্যায়ের উপর আস্থা রাখেন। দেশের সিভিল সোসাইটি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন ও তারা জানেন কারা কেমন প্রকৃতির।”