আমফান হোক কি লকডাউন, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বাঁচার রসদ যোগাচ্ছে হ্যাক

0

বিশেষ প্রতিবেদন,টাইমস্ বাংলা : ‘Don’t leave the deprived people’ এই আপ্তবাক্যকে সামনে রেখে ২০১৫ সালে পথ চলা শুরু করেছিল বাসুদেবপুর হিউম্যান আলাইন্সেস কালচারাল ওয়েলফেয়ার সােসাইটি। যার সারা বাংলায় পরিচিতি হ্যাক নামে। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীন এলাকায় পিছিয়ে পড়া গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আধুনিক পরিকাঠামাে তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র ও সঠিক তত্বাবধানের অভাবে হারিয়ে যেতে বসা মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের সমাজের মূল স্রোতের সাথে যুক্ত করা। হাসিবুর রহমান , শেখ আরিফ , ওয়াসিম পারভেজ , আসমাউল বেগ , ও অন্যান্ন সদস্যদের হাত ধরে সেই প্রচেষ্টা সাফল্য পেয়েছে । প্রতি বছর প্রায় ১০০ ছেলে – মেয়েদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রেখে যুগোপযুগী আধুনিক শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের যাবতীয় শিক্ষাসামগ্রী , জামা কাপড় এর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে হ্যাক ওয়েলফেয়ার সােসাইটি।

অবশ্য তারা থেমে থাকেনি শুধু এইটুকু পরিসরে, এই যুবকদের অদম্য জেদ তাদেরকে যুক্ত করেছে বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজে , সেটা উদয়নারায়নপুর বা কেরলের বন্যার মতাে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হােক বা চিকিৎসাক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষের পাশে থাকা হােক, বা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের আর্থিক সহযােগিতা হােক; প্রত্যেকটি আর্থসমাজিক বিষয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকেছে হ্যাক। তার সাথে এলাকাভিত্তিক মহিলাদের স্বনির্ভরতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতার মতাে বিষয়কে গুরত্ব দিয়ে স্যানিটারী ন্যাপকিন তৈরির মতাে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে চলেছে হ্যাক ওয়েলফেয়ার সােসাইটি ।

হ্যাকের সাধারণ সম্পাদক সেখ হাসিবুর রহমান জানিয়েছেন, “বর্তমানে করােনা অতিমারীর জন্য যখন সবাই লকডাউনে বন্দী , হ্যাক এর পক্ষ থেকে হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি , দুই চব্বিশ পরগনা সহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবারের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৯৫ জন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের দৈনিক খাবার , ৩৪ জন অসহায় মানুষের জরুরী ওষুধ ও ১৫৬ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের কমপক্ষে ১৪ দিনের করে খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। , এছাড়াও রমজান মাসে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ পরিবারের কাছে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরেছে ।। সর্বোপরি লকডাউন-এর জেরে জেলার ব্লাড ব্যাংক গুলাের যখন বেহাল অবস্থা তখন হ্যাক এর ” রক্তবন্ধু ” প্রকল্পের মাধ্যমে এখনাে পর্যন্ত থ্যালাসেমিয়া সহ অন্যান্য রােগীর আপদকালীন প্রয়োজনে ১১৩ ইউনিট রক্ত পৌঁছে দেওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড় আমফান বিধ্বস্ত দুই মেদিনীপুর, হাওড়া ও দুই চব্বিশ পরগনার ৩৫০-টি পরিবারের কাছে ত্রিপল, বিদ্যুৎ বিছিন্ন এলাকায় সৌরশক্তি চালিত লাইট, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছে হ্যাক ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
এই সকল কাজে দূর দুরান্ত হতে বিভিন্ন সহৃদয় মানুষ তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন । এই সকল সহৃদয় মানুষের পাশে থাকা আমাদের পথ চলার সাহস জুগিয়েছে , ভবিষ্যতেও সকলে পাশে থাকবে এই আশা রাখি ।”

হ্যাকের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন হাসিবুর। তিনি জানালেন, মহিলা স্বনির্ভরতার দিকে লক্ষ রেখে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ এলাকা গুলিতে বিভিন্ন কুটিরশিল্পের প্রশিক্ষণ ও রােজগারের পথ প্রশস্থ করতে চায় হ্যাক। গ্রামীণ এলাকায় দুঃস্থ মানুষদের জন্য পলি ক্লিনিক , ল্যাব ও আপদকালীন মেডিক্যাল সরঞ্জাম যথা অক্সিজেন , নেবুলাইজার , এম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিচ্ছে তারা। হ্যাক ইনস্টিটিউট এন্ড টেকনোলজিতে প্রতিভাবান ছাত্র ছাত্রীদের মেডিক্যাল , ইঞ্জিনিয়ারিং ও সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুত করে তাদের ভবিষ্যৎ কে সুনিশ্চিত করতে চায় তারা। ” হ্যাক পরিবার ” এই নামকরনে বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এমন এক পরিবার গড়ে তােলা যাতে ওই মানুষগুলাে পরিবারের অভাব না অনুভব করতে পারে।