বাঙালী জাতীয়তাবাদ ও বহিরাগত আগ্রাসন

0

রামিজ রাজা

বাঙালী প্রধানত অনার্য। যদিও শেষ ২-৩ হাজার বছরে বাঙালী জাতি একটি সংকর জাতিতে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রিক, নেগ্রিটো, দ্রাবিড়, মোঙ্গল, পাঠান থেকে শুরু করে আর্য-অনার্যের সংমিশ্রণে বাঙালী জাতি গঠিত হয়েছে। এহেন বাঙালী জাতি অগণিত বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বহিরাগত হানাদাররা সর্বদা বাংলার অপরিসীম প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন করতে বাংলার বুকে আঘাত হেনেছে। তবে খুব কম সময়ই বাংলা বহিরাগত শক্তির কাছে মাথা নত করেছে।

এই আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার যুগেও বহিরাগত শক্তি আবার বাংলা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। এখানে বহিরাগত বলতে মূলত বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরার সাথে মেল না খাওয়া সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে। অত্যন্ত চতুরতার সাথে ৭০-৩০ এর ভাগাভাগি করে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্হানের ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বাঙালী মননে। এই অপচেষ্টা প্রতিরোধের একমাত্র মাধ্যম বাঙালী জাতীয়তাবাদ। বাঙালী জাতীয়তাবাদ কোনরকম আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দেয় না তা ‘বাঙালীর জাতীয়তাবাদ’ বইতে লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দেখিয়েছেন। লেখকের ভাষায় “জাতীয়তাবাদের পক্ষে যেমন বিপক্ষেও তেমনি অনেক কিছু বলার আছে, এবং থাকবে। জাতীয়তাবাদ আর দেশপ্রেম এক বস্তু নয়; জাতীয়তাবাদ আরো বেশি রাজনৈতিক। বাঙালীর জাতীয়তাবাদ ভাষাভিত্তিক, এবং আত্মরক্ষামূলক।” বাঙালী জাতীয়তাবাদ সর্বদা বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণীবিভাজন এর বিরুদ্ধে লড়তে শেখায়; বাঙালীকে ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়।

বাংলা ভাষায় কথা বললে বা বাংলার চর্চা করলেই শুধু বাঙালী হওয়া যায় না, অপর বাঙালীর প্রতি সংবেদনশীলও হতে হয়।
বাঙালীর এখন ঐক্যবদ্ধ হবার সময়। বহিরাগত সাম্প্রদায়িক ও মনুবাদী শক্তির হাত থেকে বাংলাকে এখন বাঙালীর একতাই বাঁচাতে পারে। আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে হবে। মানবতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এই বাংলার পবিত্র মাটি রক্ষা করা এখন বাঙালী মাত্রেরই কর্তব্য। বহিরাগত হানাদারদের আক্রমণ থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হলে তাই আপামর বাঙালীকে এগিয়ে এসে বাঙালী জাতীয়তাবাদের প্রতিরোধমূলক উপায় অবলম্বন করতে হবে। বাঙালী, বাঙালীকে না বাঁচালে কে বাঁচাবে?
জয় বাংলা।

রামিজ রাজা
রিসার্চ স্কলার, ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, দুর্গাপুর