উত্তর ২৪ পরগনার আমফান বিধ্বস্ত ১৫০ পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিলো বিবর্তন

0

টাইমস বাংলা নিউজডেস্ক : শ্রাবস্তীপুরের দুর্ভিক্ষে দুর্গতজনের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যখন বুদ্ধ তাঁর কয়েকজন ধনবান ভক্তের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন, তারা তখন নানা অজুহাত খাড়া করে সে প্রস্তাবে অসম্মত হয়েছিলো। সেদিন বিমর্ষ বুদ্ধের ‘করুণ আঁখি দুটি’ ব্যথায় চিকচিক করে উঠেছিলো জলে। কিন্তু ‘নির্বাক সে সভাঘর’ হঠাৎই চকিত হয়ে উঠেছিলো এক ভিক্ষুক কন্যার স্পর্ধিত কণ্ঠে। বুদ্ধের সেই ধনবান ভক্তদের মাঝে নেহাতই তুচ্ছ সেই ভিক্ষুণী গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে বলেছিলো –
“নগরীরে অন্ন বিলাবার
আমি আজ লইলাম ভার”
এই অসম্ভব আশ্বাসবাণী শুনে সকলেই যখন বিস্ময়ে স্তব্ধবাক, ঠিক তখনই ভিক্ষুণী পেশ করেছিলো তার সেই আশ্চর্য সরল সমাধানটি –
“আমার ভাণ্ডার আছে ভরে
তোমা সবাকার ঘরে ঘরে …”

এই ইতিহাস মনে রেখেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের সমাজসেবী সংগঠন ‘বিবর্তন’। তাই তার শূন্য পাত্রখানি নিয়ে সে পৌঁছে গেছে মানুষের দোরে-দোরে। আর পরার্থপরতাই যাদের কাছে ধর্ম, পরের দুঃখে প্রাণ আকুল হয় যাদের, সেইসকল সহৃদয় মানুষের আন্তরিক সহায়তায় বসিরহাটের ‘বিবর্তন’ আর এক সমাজসেবী সংগঠন ‘মহীরুহ’র সঙ্গে মিলে পৌঁছে গেছিলো উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার আমফান বিধ্বস্ত অঞ্চলে। দুই সংগঠন যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার চব্বিশ বিঘে ঘেরি পাড়া, টিয়ামারী, কালীতলা এবং শুলকুনি পূর্বপাড়া – বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বন্যা-বিধ্বস্ত এই চারটি অঞ্চলের ১৫০টি পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেয়। বিবর্তনের এক সদস্যের উপলব্ধি – “মানুষের এই নিদারুণ দুরবস্থার স্থায়ী সমাধান আমার-আপনার একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। এই দুর্গত মানুষগুলোর প্রয়োজনের কাছে আমাদের ক্ষমতা সত্যিই অণুবীক্ষণ দিয়েও পরখ করা যাবে না। তবু আমরা প্রাণপণ আমাদের প্রচেষ্টা জারি রেখে যাবো।” সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও ‘বিবর্তন’ অর্থ সংগ্রহ করে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দুর্গত এলাকায়। তারা মনে করে এটা তাদের সামাজিক দায়িত্ব।