লোকসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ ভীত শক্ত হচ্ছে বামেদের

0

বিশেষ প্রতিবেদন,টাইমস্ বাংলা, কলকাতাঃ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে রাজনীতির ময়দানে ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হতে শুরু করেছে বামফ্রন্ট। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে একের পর এক পুরসভার নির্বাচন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন কিংবা চলতি বছরের পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই ভরাডুবি হয়েছে বামেদের। যার ফলে দলীয় কর্মীদের অনেকেরই মনোবল তলানিতে ঠেকেছে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই দলীয় কর্মীদের ফের চাঙ্গা করতে না পারলে সিপিএম কিংবা তার শরীক দলের অবস্থা যে একেবারেই সাইনবোর্ডে পরিণত হবে, তা ভালোভাবেই জানেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তারা। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতির ময়দানে নিজেদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখতে আগে ভাগেই ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনসভা করে পুরনো কর্মী থেকে শুরু করে নবীণ প্রজন্মকে দলে টানার চেষ্টা করছেন। যার ফল ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে বামফ্রন্ট। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দলীয় অফিস খোলা শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া দলীয় কর্মীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। দলের ব্লক ও অঞ্চল অফিসগুলিও খোলা হচ্ছে। ব্লকস্তরের নেতৃত্ব নিয়মিত জনসংযোগের কাজ করছেন। পাশাপাশি নিজেদের কৃতকর্জমের জন্য জনসাধারণের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিচ্ছেন বামনেতা সেই সঙ্গে ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বাম নেতাদের এই প্রয়াসের ফলেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দিকে কিছুটা শক্তি ফিরে পাচ্ছে ক্ষয়িষ্ণু দল সিপিএম।

এক্ষেত্রে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র আরও একটি কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত সোমবারই সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে তিনি লোকসভা নির্বাচনে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বার্তা দিয়েছেন। সূর্যকান্ত মিশ্র দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ‘ যেখানে বামেরা নেই, সেখানে কংগ্রেসকে ভোট দিন।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘ সাম্প্রদায়িক দল বিজেপিকে আটকানোই মূল লক্ষ্য বামেদের। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলে বিজেপি বিরোধী ভোট একত্রিত হবে। সহজেই ওই সাম্প্রদায়িক দলকে পরাস্ত করা সম্ভব হবে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের এই জোট বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘ সূর্যবাবুর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস। কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

লোকসভা নির্বাচনে বাম- কংগ্রেসের জোট হলে বাম কর্মীদের মনোবল আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম- কংগ্রেস জোট হয়েছিল। এর পরেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। আর অপ্রত্যাশিতভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল কংগ্রেস। যার অন্যতম কারণ সিপিএম কর্মীরা কংগ্রেসকে ভোট দিলেও কংগ্রেস কর্মীরা অতীতের কথা স্মরণ করে বামেদের ভোট দেয়নি। এতেই ভরাডুবি হয়েছে বামেদের। আর জোটের উদ্দেশ্য পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই ভুল আর করবে না কেউই। ফলে জোটের উদ্দেশ্য সফল হলেও হতেও পারে। তবে মানুষ কার সঙ্গে থাকবে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেই তা স্পষ্ট হবে।

আরও খবর একনজরে:

রাফায়েল কেলেঙ্কারির সত্য উদ্ঘাটন করলেন সাংবাদিক ওয়ালি রহমানি :

এলাহাবাদ থেকে প্রয়াগ রাজ, যোগী আদিত্য নাথের মুখোস খুলে দিলেন তরুণ সাংবাদিক ওয়ালি রহমানি

ইনশাল্লাহ্ মাশাল্লাহ্ বলে আর মুসলমানদের ভোট নেওয়া যাবে না, তৃণমুলকে এবার গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলবো আমরা:ত্বহা সিদ্দিকি

চরম অব্যবস্থা বসিরহাট জেলা হাসপাতালে:

আইসক্রিম বিক্রেতার ছেলে ডব্লিউবিসিএস এ গেজেটেড অফিসার: