শাহিনবাগের সিএএ’র বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য দিল্লীর বিজেপির প্রার্থীর

0
Delhi BJP candidate against Shahinbag CAA

নিউজডেস্ক, টাইমস্ বাংলাঃ বিজেপি সরকারের পাশ করা সংবিধান পরিপন্থী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে দিল্লীর শাহিনবাগে হাজার হাজার নারী সমবেত হয়ে আছেন। মুলত বিক্ষোভে অংশ গ্রহণকারী মুসলীম নারীরাই সংখ্যাধিক্য।

এই বিষয়টি নিয়েই টুইটারে টুইট করে বিজেপি প্রার্থী কপিল মিশ্র লেখেন, শাহীন বাগের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতে ঢুকে পড়েছে। ‘মিনি পাকিস্তান’ তৈরি হয়েছে দিল্লিতে। পাকিস্তানের দাঙ্গাবাজরা সড়ক দখল করে বসে আছে।

এছাড়াও অন্য একটি টুইটে তিনি লেখেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন দিল্লিতে ‘ভারত বনাম পাকিস্তানের লড়াই’ হতে চলেছে। এভাবে বিক্ষোভকারী নারীদের কার্যত পাকিস্তানি বলে চিহ্নিত করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালান ওই বিজেপি প্রার্থী।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন হবে। আগেই দিল্লি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কোথাও কোনও উস্কানিমূলক পোস্ট বা টুইট করা হচ্ছে কিনা, সেদিকে তারা কড়া নজর রাখছে। নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত যেকোনও পোস্টের বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

দিল্লির মুখ্যনির্বাচনী কর্মকর্তা রণবীর সিং বলেন, ওই টুইটটি আমাদের নজরে আসে। এবং সেটি মুছে ফেলার জন্য আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। কমিশন সে ব্যাপারে টুইটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে টুইটটি মুছতে বলেছে।নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কপিল মিশ্রকে শোকজ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলে।
কিন্তু তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। পরে কপিল তাঁর সাফাইতে বলেন, আমি ভুল কিছু বলিনি। এদেশে সত্যি কথা বলা অন্যায় নয়। আমি আমার মন্তব্য থেকে সরছি না।

এরপরেই নির্বাচন কমিশন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র’র বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণা ও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর অপরাধে পুলিশকে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়। রাতেই দিল্লি পুলিশ ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
এসব থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়,বিজেপি নির্বাচনের পূর্বে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। এটা তাদের চিরায়ত পরিকল্পনা।