মোদীর আগমনে বিক্ষোভ নগরী কলকাতা,মমতার দ্বৈত আচরণে অসন্তুষ্ট অনেকেই

0
Demonstrations on Modi's arrival Kolkata, many dissatisfied with Mamata's dual behavior

নিউজডেস্ক, টাইমস্ বাংলাঃ জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার কেন্দ্রের সিংহাসনে বসার পর হঠাৎই জনগনের কাছে দাবী করে বসল যে আপনারা এদেশের নাগরিক নন। আপনাদের প্রত্যেকেই নাগরিকত্বের প্রমাণ বিজেপিকে দিতে হবে। এই তুঘলকি অপমান ভারতীয়রা বরদাস্ত করতে পারেন নি। তাঁরা সকলেই পথে নেমে এসেছে,কলকাতা তার ব্যতিক্রম নয়।

তাই সেই স্বৈরচার নাগরিকত্ব পরীক্ষক কলকাতার মাটিতে পা রাখতেই কলকাতা বিক্ষোভ-নগরীতে পরিনত হয়ে যায়,মিশরের তেহরী স্কোয়ারের মত।

কিন্তু এনআরসি বিরোধী গন আন্দোলনের প্রধান মুখ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজভবনে মোদীর সৌজন্য মূলক বৈঠকেও অনেকে মেনে নিতে পারছেন না।তাদের দাবী গো ব্যাক তো নিঃশর্ত গো ব্যাকই হওয়া প্রয়োজন ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বামপন্থিরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়। একইসঙ্গে বিরোধীদল কংগ্রেস,  কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মাঠে নেমেছে।এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালো পতাকা, কালো বেলুন প্রদর্শনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুতল পোড়ানো হয়। বিক্ষোভের জেরে অশান্তি রুখতে কোলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবাদী জনতা ‘গো-ব্যাক মোদি’ লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন। বিক্ষোভকারীরা এসময় ‘নো এনআরসি’, ‘নো সিএএ’, ‘নো এনপিআর’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করেন। ধর্মতলায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর পক্ষ থেকে ‘গো-ব্যাক মোদি’ স্লোগান দেওয়া হয়।

ঐদিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের সফরে আসেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়, রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী এবং  মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া বিমানবন্দরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা, মুকুল রায় এবং অর্জুন সিং প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

বিকেলে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর আসার খবর প্রকাশ্যে আসার পরে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদী মানুষজন ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠেন। রাতে  থেকেই যাদবপুর, কলেজ স্ট্রিট, গোলপার্ক এবং ধর্মতলায় বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্য-সমর্থক ও সাধারণ মানুষজন। রবিরার প্রধানমন্ত্রী নেতেজি ইনডোর স্টেডিয়ামে কলকাতার বন্দরের ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই এনআরসি-সিএএ’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জেরে অসমে প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল হয়। পশ্চিমবঙ্গও এনআরসির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও অসমের পিছনেই রয়ে গেল। এতে মমতার এনআরসির বিরুদ্ধে আন্দোলন কি ক্রমশ মৌনতার দিকে চলে গেল না? এ প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে। যেহেতু সারা বঙ্গ এখন বিক্ষুব্ধ তবে এ থেকে বাম-কংগ্রেস জোট সুযোগ খুঁজে নিতে পারে।