যুবসম্প্রদায়ের জন্য আজ এক অনবদ্য অনুপ্রেরণা আল-আমীন মিশনের প্রাক্তনী হাবিবুর রহমান

0
Habibur Rahman, alumnus of Al-Amin Mission, is an incredible inspiration for the youth

টাইমস বাংলা নিউজডেস্ক : হাবিবুর রহমান। ৩৪ বছর বয়সী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। জন্ম নদীয়া জেলার করিমপুরের এক গ্রাম লালনগরে। বাবা মোহর আলী সর্দার পেশায় ভাগচাষী। স্থানীয় নারায়ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন আল আমীন মিশনের খলতপুর শাখায়। সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে ভর্তি হলেন কলকাতার টেকনো ইন্ডিয়া কলেজে। ২০০৯সালে বিটেক পাশ করে যোগ দিলেন এক প্রাইভেট সংস্থা তে। আর এখন এই ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান দেখিয়ে দিয়েছেন, লক্ষ্য স্থির রেখে যদি কঠোর পরিশ্রম করা যায় তাহলে সেই নিরলস প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই হাতছানি দেবে সাফল্য। কিভাবে ? তাহলে জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের বাকি টুকু।


চাকরির সাথে সাথে নিজের প্রচেষ্টায় গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ওয়েব ডিজাইনিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং ম্যানেজমেন্ট এ বিশেষ পারদর্শীকতা অর্জন করেন। চাকরি ছেড়ে এবার নিজের ব্যবসা শুরু করবেন উপরিউক্ত বিষয় গুলি নিয়ে। ইস্তফা দিলেন এবং ব্যবসায়িক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সংখ্যালঘু মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে এমন একটা পরিকল্পনা কে বাস্তবায়িত করা মোটেই সহজ ছিল না তার পক্ষে। একেবারে শুন্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন চড়াই উতরাই এর মধ্য দিয়েই তিনি পৌঁছে গেলেন অভীষ্ট লক্ষ্য তে।

২০১২ সালে স্বাধীন ও একক ভাবেই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা এক্সপো ল্যাব। দিন টি ছিল ১৫ই আগস্ট। সেই থেকে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই ল্যাব কে তিনি পরিণত করেছেন এক্সপো ল্যাব ইনফোটেক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি তে।
বর্তমানে এই সংস্থা টি পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৩০০ টির বেশি সংস্থা জুড়ে কাজ করে চলেছে। তৈরি করেছে ৫০০টির ও বেশি ওয়েবসাইট। ল্যাব টি বর্তমানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইনিং, app ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এ রাজ্য জুড়ে সেরা সংস্থা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে এখানে ২৫জন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সহ ৩০জন কর্মরত।

শুধু তাই নয়, সরকারি চাকরি যে বেকারত্বের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় নয় এই চাকুরীবিহীন পরিস্থিতি তে, উপযুক্ত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থায় কর্মসংস্থান সম্ভব এই ভাবনা কে প্রসারিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এক্সপ্র ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এন্ড ম্যানেজমেন্ট তথা EITM। এখানে বছরে ৫০ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারাই দেশের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানি তে কর্মরত। ইনস্টিটিউটের সফলতার হার নজরকাড়া। নিজের সফলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে লক্ষ্য স্থির রেখে চলমান পথের একমাত্র গন্ত্যব্যই হল সফলতা।


‘বাঙালি আদতে একটি ব্যবসা ভীরু জাতি’ – এই প্রবাদবাক্য টি তিনি যেন ভুল প্রমাণ করে দিয়ে স্থাপন করেছেন এক নতুন দৃষ্টান্তমূলক অভিজ্ঞতার। তাই যুবসম্প্রদায়ের জন্য এক অনবদ্য অনুপ্রেরণা যেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর সংস্থা EITM রাজ্যে বেকার যুবক যুবতীদেরকে কর্মসংস্থানের নয়া দিশা দেখাচ্ছে। হাসি ফুটছে অসহায়, হতাশ আর মধ্যমেধার ছেলে মেয়েদের মুখে।