ইমরান খানের প্রথম ১০০ দিনঃ এক মূল্যায়ন

0

সম্পাদকীয়ঃ আবু সঈদ আহমেদ
২০১৩ সালের নির্বাচন। সেনাশাসন শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় নির্বাচন। সেবারই প্রথম কোন দল নিজেদের সাংসদীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করে নির্বাচনে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে একটি ভিডিও যাতে শোনা যাচ্ছে।

আল্লাহ নে ইনসানকে হাত পে দিয়ে হ্যায় সির্ফ নিয়ত আউর কৌশিস করনা। অউর কামইয়াবি তো ও দেতা হ্যায়।

ক্রিকেট কিংবদন্তী ইমরান খানের উদাত্ত কণ্ঠে এই বক্তব্যের পর শুরু হয় তবদিলির গান। বদলের ডাক দেওয়া সেই গানের মাঝে শোনা যায়

তবদিলি আ নাহি রহি, তবদিলি আ চুকি হ্যায়।

না সেবার সরকার গড়তে পারেন নি ইমরান। মোট ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় হলেও আসন সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে শেষ করতে হয় তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফকে। এরপর লাগাতার দুর্নীতি বিরোধী জেহাদে তোলপাড় করে দেন সারা দেশ। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দুর্নীতিগ্রস্তদের কাঁদাবেন, ওঁদের তকলীফ পৌঁছে দেবেন। গদি যায় নওয়াজ শরীফের।
২০১৮তে স্বপ্নপূরণ। খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাফল্যকে হাতিয়ার করে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠা করলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ।

প্রথম থেকেই প্রথম একশ দিনের কাজের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছিলেন। দেখা যাক কতটা কথা রাখলেন ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
কথা দিয়েছিলেন, ভারত এক পা এগোলে তিনি দুই পা এগোবেন। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসবেন। নিজের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়েছিলেন বহু ভারতীয়কে। সেই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রিকেটার নভজ্যোত সিং সিধুর পাক সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধরা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবুও প্রতিশ্রুতিমত কার্তারপুর করিডর খুলে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নয়া সূচনা করলেন তিনি।
ভারতীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজদীপ সারদেশাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানে বন্দী থাকা এক ভারতীয়ের ব্যাপারেও উদ্যোগ নেবেন বলে জানালেন। এছাড়াও খাইবার প্রদেশে আবিষ্কৃত প্রাচীন বৌদ্ধমূর্তিকে ঘিরেও নয়া পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার আশাও জানান তিনি।
দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের মুখ ইমরান দুর্নীতিদমনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। সীমান্তপ্রদেশে পুলিসী সংস্কার তাঁর দলের একটা বড় সাফল্য ছিল। একশদিন পূর্তিসূচক বক্তৃতায় দাবি করেন বেশ কিছু দেশের সাথে দেশের পাচার করে দেওয়া ধন ফিরিয়ে আনতে চুক্তি করেছেন। এর ফলে যে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান চলছে তা থেকে বেরিয়ে আসার আসা দেখান তিনি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী বাসভবনে থাকেন নি। বিক্রি করে দিয়েছেন, সেখানকার গাড়ি এমনকি মোষও। কৃচ্ছসাধনের উদাহরণ নিজেকে দিয়ে শুরু করে হাত বাড়িয়েছেন অন্যান্য ক্ষেত্রে। এই মুহুর্তে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রাসঙ্কটে থাকা পাকিস্তানে চলছে ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি। আমদানি সমস্যার সমাধান না হলে এটা মেটার নয়।
যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের প্রথমে বিরোধিতা করে পরে মেনে নিয়েছিলেন, সেই করিডরও সম্পুর্ণ হতে ঢের বাকি। আই এম এফে হাত বাড়াবেন কি বাড়াবেন না, তা নিয়েও বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নি। কাশহোগি-হত্যা পরবর্তী সমালোচিত সৌদিতেও ছুটে গিয়েছিলেন অর্থসাহায্যের আশায়।
প্রবাসী পাকিস্তানীদের কাছে হাত পেতেছেন বাঁধ তৈরির জন্য। পেয়েছেন সাড়া। তবুও এটা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। সংখ্যালঘুদের জন্যও একাধিক প্রকল্প নিয়েছেন। তবুও কাদিয়ানী আতিফ মিয়াকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগে ব্যর্থতার জন্য সমালোচিত হতে হয় তাঁকে। আসিয়া বিবি মুক্তি পাওয়ার পরবর্তী বিক্ষোভে গ্রেফতার করেছেন তেহরিক-ই-লাব্বাইক নেতাদের। পরিণতি কি হবে বলবে ভবিষ্যৎ।
তাই বলা চলে তবদিলি কিম্বা কামইয়াবি এখনও না এলেও ‘কৌশিস’ আর ‘নিয়তে’র পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ ইমরান খান।