একটা লাশের সন্ধানে ঝাঁপাল সব দল ‘দিলদার তুমি কার

0

মানব গুহ, কলকাতা: একটা, শুধু একটা লাশ চাই। একটা ‘বডি’। তাহলেই প্রচার উঠবে তুঙ্গে। লড়াইয়ের ময়দানে করা যাবে বাজি মাত। মানুষকে বেচা যাবে দুঃখের কাহিনী৷ মাইক নিয়ে চেঁচিয়ে বলা যাবে, একটা জীবনের লাশ হবার গল্প৷ আর সব দেখেশুনে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, দিলদার তুমি কার?

ভাগাড়ে একটা লাশের সন্ধানে থাকে সব শকুন৷ শেষ পর্যন্ত লাশ পাওয়া গেলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পরে সবকটা শকুন৷ রাজনীতির ময়দানটাও এখন এইরকমই৷ রাজনীতির ময়দানে একটা লাশ পড়লেই ঝাঁপিয়ে পরে সব কটা রাজনৈতিক দল৷ ঠিক যেমন বীরভূমের সিউড়িতে ১ নং ব্লকে বিডিও অফিস চত্বরে গুলিতে নিহত দিলদার শেখের লাশ নিয়ে চলছে দখলদারীর রাজনীতি৷

সোমবার দুপুরের আগেও বেঁচে থাকা ভারতবাসী দিলদার শেখ সিউড়ির বিডিও অফিস চত্বরে এক গুলিতেই লাশ৷ মরার আগে তাকে চিনতও না কেউই৷ কিন্তু জ্যান্ত মানুষটা ‘বডি’ হতেই ঝাঁপিয়ে পরলো সব রাজনৈতিক দল৷ রাজনীতির ভাগাড়ে পরেছে ‘লাশ’, সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁপিয়ে পরেছে রাজনীতির ‘শকুনরা’৷

শাসক তৃণমূলের দাবী, মৃত দিলদার শেখ তাদের দলের নেতা৷
বিজেপির দাবী, মৃত দিলদার শেখ তাদের সংখ্যালঘু সেলের নেতা৷
সিপিএমের দাবী, মৃত দিলদার শেখ তাদের এক প্রার্থীর ভাসুর৷
কংগ্রেসের তরফ থেকে দিলদার শেখকে নিয়ে দাবী করা হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত জানা নেই৷ তবে, সেটাও হলে আশ্বর্যের কিছুই নেই।

লজ্জাজনক রাজনীতি গোটা রাজ্য জুড়ে। একটা মৃতদেহ নিয়ে তিনদলের ঝাঁপিয়ে পরা দেখে বোঝাই যায় বাংলার রাজনীতিটা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে। লাশ দখলের লড়াই কখনই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। একজন রাজ্যবাসী অকালে ভোটের বলি হলেন। আর তারপর, তার বাড়ির কথা, পরিবারের কথা না ভেবে সবাই এখন লাশ দখলের লড়াইয়ে মত্ত।

শুধু তাই নয়৷ মৃত দিলদার শেখের বাবাকে দিয়ে সব দলই বলিয়ে নিতে চায়, দিলদার তাদেরই লোক৷ সকালে দিলদারের বাবা বললেন, দিলদার বিজেপি করত৷ বিকালে সেই বাবাই তৃণমূল নেতা অনুব্রত মন্ডলের দলীয় অফিসে এসে বললেন, তাঁর ছেলে তৃণমূল কর্মী৷ ছেলের মৃতদেহ নিয়ে কান্না নয়, প্রাণ বাঁচাতে নিজের ছেলের রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজতে ব্য়স্ত এক শোকগ্রস্ত বাবা৷ হাঁ, আমাদের বাংলায় এই সংস্কৃতিই এখন চলছে৷

বোঝা যায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ, প্রফুল্ল সেন, বিধানচন্দ্র রায়ের বাংলায়, রাজনীতিটা কতটা ‘ফালতু’ লোকেদের হাতে চলে গেছে। সস্তার নেতাদের হাত ধরে রাজনীতিটা আরও সস্তা হয়ে গেছে৷ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পরও একদিনের মনোনয়নে জেলায় জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত বাংলা৷ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিডিও, এসডিও ও জেলাশাসক দপ্তরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে রুমালে মুখ বাঁধা গুন্ডাবাহিনী৷ গণতন্ত্রের গলা টিপে বাংলার রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুষ্কৃতী দল।

আর এই গুন্ডাবাহিনীর হাতে লাশ পড়লেই তা দখল করতে ময়দানে নামতে তৈরী বাংলার প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলি৷ লাশের রাজনীতি সস্তা করছে বাংলার নাম, বাংলার ঐতিহ্যকে৷ সস্তার রাজনীতিতে তলিয়ে যাচ্ছে ভারত তথা বিশ্বের চোখে বাংলার আদর্শ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি৷ সস্তার রাজনীতিতে অবমুল্যায়নের পথে বাংলা

সৌজন্যে : ২৪×৭ কলকাতা