সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে যোগী সরকার

0
In the face of severe condemnation of the Supreme Court, the Yogi Sarkar

ওয়েব ডেস্কঃ প্রশান্ত কানোজিয়ার মামলার শুনানির পর শীর্ষ আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল যোগী সরকার৷ শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ এরকম ঘটনা ও এরকম গ্রেফতারি আগে দেখা যায়নি৷ দ্রুত ওই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷

উল্লেখ্য যোগীকে নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করায় গ্রেফতার করা হয় ওই সাংবাদিককে৷ ধৃত প্রশান্ত কানোজিয়া ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক৷ তাঁর বিরুদ্ধে হজরতগঞ্জ পুলিশ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়৷ অভিযোগে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যে ট্যুইটার ও ফেসবুকে ওই পোস্ট শেয়ার করেছেন সাংবাদিক৷ তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসি’র ৫০০ ও আইটি অ্যাক্টের ৬৬ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করে ঠিক কোন অভিযোগে ও কিসের ভিত্তিতে ওই সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা জানাতে হবে উত্তর প্রদেশ সরকারকে৷ প্রসঙ্গত, গত ১১ দিন ধরে জেলে রয়েছেন প্রশান্ত কানোজিয়া৷ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইন্দিরা ব্যানার্জী ও অজয় রস্তোগীর অবসরকালীন বেঞ্চ এদিন এই প্রশ্ন তুলে ধরে যে কেন ওই সাংবাদিক জেলে রয়েছেন৷

প্রশান্ত কানোজিয়ার স্ত্রী জিগিষা অরোরার আইনজীবী নিত্যা রামকৃষ্ণন এদিন সুপ্রিম কোর্টে জানান এই গ্রেফতারি অবৈধ ও অসাংবিধানিক৷ তবে এর পালটা উত্তর প্রদেশ সরকারের পক্ষের আইনজীবী প্রশান্তের জামিনের বিরোধিতা করে আবেদন করেন৷ তখনই সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে উত্তর প্রদেশ সরকার৷ কি কারণে ওই সাংবাদিক এতদিন ধরে জেলে তা জানতে চান বিচারপতিরা৷ গোটা ঘটনায় স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে এদিন মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চ৷

এরই সাথে কানোজিয়ার ট্যুইটের নিন্দাও করে সুপ্রিম কোর্ট৷ তবে জানিয়ে দেয় এই ঘটনার জন্য কারাবাস কখনও পরিণতি হতে পারেনা৷ বাক স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার জানায়, মতপার্থক্য হতেই পারে, কিন্তু তার শাস্তি এইভাবে রাজ্য সরকার দিতে পারে না৷

এদিকে, গ্রেফতারির পর হজরতগঞ্জ থানার পুলিশ প্রেস বিবৃতিতে জানায়, কানোজিয়া ‘অপরাধ’ স্বীকার করে নিয়েছেন৷ ওই পোস্ট তিনিই করেছেন বলে তদন্তকারীদের জানান৷ তবে এই গ্রেফতারির পর ওঠে কিছু প্রশ্ন৷ প্রকাশ কানোজিয়া দিল্লির বাসিন্দা৷ তাঁকে কোথা থেকে কীভাবে গ্রেফতার করা হয় সেবিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি পুলিশ৷ সাংবাদিক গ্রেফতারের নিন্দা করে সমাজবাদী পার্টি৷ তোপ দেগে জানায়, আইনের শাসন ফেরাতে ব্যর্থ রাজ্য সরকার৷ সাংবাদিক গ্রেফতারে সেই হতাশাই প্রকাশ পেল৷

এই ঘটনায় অম্বিকেশ মহাপাত্রের স্মৃতি ফিরে আসে উত্তরপ্রদেশে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক পোস্ট শেয়ার করায় গ্রেফতার করা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রফেসরকে৷ প্রশান্ত কানোজিয়ার ঘটনায় সেই স্মৃতিই ফিরে আসে৷