রোহিঙ্গা গণহত্যা মমলায় মায়ানমারকে কঠোর নির্দেশিকা আন্তর্জাতিক আদালতের

0
International court directs Myanmar on Rohingya massacre

নিউজডেস্ক, টাইমস্ বাংলাঃ রোহিঙ্গা গণহত্যা ও উচ্ছদের বিষয়ে গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিল তার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আদালত মায়ানমারকে বেশ কয়েকটি অন্তবর্তীকালিন নির্দেশ দিল।এই নির্দেশিকাই মায়ানমারকে বলা হয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করতে হবে।গণহত্যায় দোষী ব্যক্তি বা সেনা আধিকারিকদের শাস্তি প্রদান করতে হবে। আদালত আরো জানিয়েছে,জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্তে এ সব জঘন্যতম অপরাধের প্রমান আদালতের কাছে আছে।

রোহিঙ্গা মুসলীম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সহিংসতা বন্ধ করাসহ মায়ানমারকে কয়েকটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে। একইসঙ্গে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত অতীতের হামলার সকল তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে দেশটিকে।

মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদুর করা মামলায় আইসিজে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আজ ওই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

আদেশে আরও বলা হয়েছে জাতিসংঘ কনভেনশনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে হবে। মায়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী পুনরায় কোনো ধরনের গণহত্যা কিংবা গণহত্যার ষড়যন্ত্র করতে পারবে না। বিচারের চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত না হওয়া পযর্ন্ত ৪ মাস পরপর মায়ানমারকে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

গণহত্যা সনদের ধারা ২ এর আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা মায়ানমারকে পূরণ করতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে মায়ানমারকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আদেশের পর মামলার বাদী আবুবকর মারি তামবাদু এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ নিরসনে এটি একটি ছোট পদক্ষেপ হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সুরক্ষায় বিশ্বকে এখন এগিয়ে আসতে হবে।

আদালতের প্রধান বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ আদেশ পড়ে শোনান। ১৭ বিচারপতি সমন্বয়ে গঠিত প্যানেলের ১৪ জন স্থায়ী বিচারপতি এবং দুজন অ্যাডহক বিচারপতি আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।