সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে শুরু হল মহামিলনের উৎসব- মিলন উৎসব -২০২১

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাইমস্ বাংলা, কলকাতা: বৈচিত্র্যের মাঝে মহামিলনের উৎসব। এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও বিত্ত নিগম আয়োজিত মিলন উৎসব ২০২১। রাজ্য তথা দেশে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরো সুদৃঢ় করতে এবারের মিলন উৎসবের থিম রাখা হয়েছে – ঐকতান – সকলের তরে সকলে আমরা। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সংখ্যালঘু দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী গিয়াসুদ্দিন মোল্লা, বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী জাভেদ খান, তৃণমূল কগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক, আল আমিন মিশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সহ মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, ক্রিশ্চান ধর্মগুরুরা।

ফিরহাদ হাকিম তার বক্তব্যে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে মিলন উৎসব মিলন তীর্থে পরিণত হয়েছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পিছিয়ে থাকা সংখ্যালঘুরা গত ১০ বছরে সামনে সারিতে চলে এসেছে। সংখ্যালঘু খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমান বাম আমলের থেকে প্রায় দশ গুন বেড়েছে। স্কলারশিপ প্রাপকের সংখ্যা কয়েকশোগুন বেড়েছে।” তিনি এদিন বলেন, “মুসলিম, খ্রিস্টানরা জাতি হিসেবে সংখ্যালঘু হলেও, বাংলায় বসবাসকারী প্রত্যেকেই সংখ্যাগুরু। সবাই একসাথে থাকবো, চলবো, এগিয়ে যাবো।” বাংলায় কোনোমতেই কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন। একধাপ এগিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ” একদল মানুষ ভারতকে ভাগ করতে চাইছে। মরে যাবো তবু বাংলাকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবো না। এই মিলন উৎসবকে আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে।”গিয়াসুদ্দিন মোল্লা, জাভেদ খান, নাদিমুল হক এই উৎসবকে সব ধর্মের মিলন স্থল ও বাংলাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পীঠস্থান হিসেবে বর্ণনা করেন।

নিগমের চেয়ারম্যান পি বি সেলিম জানান, বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে এবারের উৎসবের নতুন আকর্ষণ বিজ্ঞান প্রদর্শনী। রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর, কলকাতা পুলিশ সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। এর পাশাপাশি জব ফেয়ারে ৪ হাজার ছাত্র ছাত্রীকে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা এবার নেওয়া হয়েছে। থাকছে কেরিয়ার কাউন্সেলিং, বড়দের জন্য ফ্রি মেডিকেল চেক আপ, সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে বিশেষ সচেতনতা শিবির। নিগমের আর্থিক সহায়তায় ব্যবসায় স্বনির্ভর হওয়া ৮০ জনেরও বেশি সুবিধাপ্রাপক হস্ত শিল্পের সামগ্রী নিয়ে স্টল বসাবেন। এইবছর ৪২ লক্ষ সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে বলে পিবি সেলিম জানান। অনুষ্ঠানে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ব্যক্তিগত ব্যবসার সুবিধায় নিগমের পক্ষ থেকে কিছু ব্যক্তিকে লোনের অনুমোদন পত্র ও নিগমের প্রশিক্ষনের শেষে বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

উৎসব চলবে ৫ ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রত্যহ সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। প্রবেশ অবাধ।