টেট পাশ করেও ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রীর কাজে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে আবার অনশনের পথে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পাশ প্রার্থীরা

0

বিশেষ প্রতিবেদন,টাইমস্ বাংলাঃ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ভিনরাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার টানছেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের রুহুল আমিন নামক যুবক । অভিযােগ , সরকারি উদাসীনতা ও মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে আটকে গিয়েছে নিয়ােগ । আর তাই এখন রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ করে বাবা – মাকে,স্ত্রী সন্তানদের দেখতে হচ্ছে এমএ – বিএড যুবককে । এমএ পাশ করে বিএড প্রশিক্ষণ নিয়েছে ।বৃদ্ধ বাবা – মা একরাশ আশা নিয়ে ছেলেকে পড়িয়েছে । পড়াশােনা করে ছেলে একটা সরকারি চাকরি পেলে সংসারটা বেঁচে যাবে । ছেলেও বাবা – মায়ের পরিশ্রমের দাম রেখেছিলাে । কিন্তু ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস । করােনা পরিস্থিতিতে টিউশন বন্ধ । হতাশার জীবন কাটছিলাে । দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেতে এবং বয়স্ক বাবা-মা,স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ শুরু করেন মুর্শিদাবাদের জেলার জঙ্গিপুরের যুবক রুহুল আমিন। অন্যদিকে এমএ বিএড এর পর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সমস্ত পরীক্ষায় পাশ করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে লোকের দ্বারে দ্বারে পুজো করে দিন পাত করছেন মেদিনীপুরের যুবক গণেশ ঘট । তাঁদের বক্তব্য ,মাদ্রাসায় চাকরির আশায় কয়েকশত চাকরি পার্থী আজ নরক যন্ত্রণা ভােগ করছে । অপরদিকে , সুদীপ্ত কুমার সরকার নামক এক ব্যাক্তির আজ বয়স শেষ 7 বৎসর ধরে অপেক্ষা করে।বেচারা আর কোনো এক্সাম এ বসতে পারবে না।

উল্লেখ্য, ওই সমস্ত চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী আমাদের রাজ্যে অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে SSC ও MSC এর মধ্যে কি দ্বিচারিতা দেখুন।SSC তে একের পর এক ফেজ বার করে আজ 2018 পর্যন্ত UPDATE করে শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।আর অন্য দিকে MSC অর্থাৎ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন UPDATE তো দূরের কথা 2013 সালের বিজ্ঞাপিত ভাক্যান্সি 3183 টি পদ পুরুন না করে প্রায় 1900 টি রিকমেন্ড দিলো।তার মধ্যে আবার প্রায় 300-400 টি পদ নন জইনিং পরে রইলো।এখনো 2013 সালের বিজ্ঞাপিত ভাক্যান্ট এর মধ্যেই প্রায় 1500 পোস্ট পরে রয়েছে তবুও MSC এক্সাম পাস করে কয়েকশত যোগ্য ছেলে-মেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।কখনো কমিশন এর বা কখনো বিকাশ ভবন আবার কখনো কালীঘাটে মাদ্রাসার পূর্ণ মুন্ত্রী তথা মুখ্য মন্ত্রির নিকট।আবার অনাশন করলেও সরকার এর বাহিনী এসে কাক ভোরে নামাজরত অবস্থায় অতর্কিত লাঠি চালিয়ে আক্রমণ করে এবং মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম নামক এক যুবককে মেরে অজ্ঞান করে দেয়।সে অজ্ঞান হয়ে গেলে নাখে-মুখে জোরপূর্বক জল ভোরে দেয়।তারপর আবার তার বুকে লাথি মারে।ফলে তাকে icu তে ভর্তি করা হয়।অনাশন তুলিয়ে দিয়ে অনেককে হুমকি দেওয়া হয় জীবন ব্যান্ড করার।

আজ মাদ্রাসা গুলোতে প্রায় 4000-5000 ভাক্যান্সি আছে।2012 সাল থেকে 8 বছর ধরে মাত্র প্রায় 1500-1700 মত শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে।এখন মাদ্রাসা গুলোতে প্রায় 7 লাখ ছাত্র-ছাত্রী পাঠরত।তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এই দুর্নীতিবাজ মাদ্রাসা চেয়ারম্যান।আমরা খবরের কাগজ,টেলিভিশন, বিরোধী নেতা সবার কাছে একটাই কথা শুনি যে,”বর্তমান সরকার তথা মাদ্রাসার পূর্ণ মন্ত্রী অর্থাৎ মমতা ময়ী মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘু দরদী।”কিন্তু বাস্তবে কাজে ও কর্মে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অভিযোগ চাকরি প্রার্থদের।

তাদের অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে মাদ্রাসা বিষয়ক সমস্যার সমাধান করুন এবং বর্তমান দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান এর তদন্ত করুন।আর যদি সমস্যার সমাধান না হয় তবে মাদ্রাসা পাস বঞ্চিত প্রার্থীরা অতি শীঘ্রই আবার আন্দোলনে নামবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।