শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আল আমিন মিশনে সফল বীরভুমের নুরজাহান

0

         মিজানুর রহমান, খলতপুর

আমরা মাসুদুর রহমানকে সকলেই চিনি! যে তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তোয়াক্কা না করে পাড়ি দিয়েছিলেন ইংলিশ চ্যানেল। যার আদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে সেদিন হার মেনেছিল ইংলিশ চ্যানেলের সেই সুদীর্ঘ যাত্রা পথ। ইতিহাসের পাতায় এ বাংলাকে এই দেশকে একটি উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন মাসুদুর। দুটি পা হারিয়েও যে “দুর্গম গিরী কান্তার মরু” জয় করা সম্ভব সেটা সেদিন প্রমান করেছিলেন তিনি। আজ আর তিনি আমাদের মধ্যে নেই একথা সত্যি, কিন্তু তাঁর সেই গল্পকথা শুনতে শুনতে অজান্তেই এ বাংলায় জন্ম নিয়েছে শতশত মাসুদুর। যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বপ্ন দেখছে বাংলাকে আমার এ দেশকে একটি উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার।

বীরভুম জেলার রামপুরহাট থানার অন্তর্গত শৈপুর গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান নুরজাহান। জন্ম থেকেই যার দুটি হাত বিকৃত। সমস্ত শরীর জুড়েও একটি বিকৃতি সহজে চোখে পড়ে। কিন্তু এসব কিছুর ঊর্দ্ধে উঠে দেশের প্রথম সারির একজন গণিতজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে নুরজাহান। আর তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়িয়েছে আল আমিন মিশন পরিবার। হতভাগা এই স্বপ্ন পরীকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার জনাব নুরুল ইসলামের। রাজ্যের শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ জনাব নুরুল ইসলামের কাছ থেকে দুহাত ভরা দোয়া আর আশীর্বাদ পেয়ে নুরজাহানের দুচোখে তখন আনন্দশ্রু। “আমাকে পারতেই হবে” দৃঢ়সঙ্কল্প নুরজাহানের।

উল্লেখ্য এবছর সে বীরভুমের দাদপুর বাতাসপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। টেস্টে- ৬০০ এর কাছা কাছি নম্বর পেয়ে আল আমিন মিশনে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত। আর সেইমতো ভর্তি পরীক্ষায় বসা নুরজাহানের। আল আমিন মিশনের ভর্তি পরীক্ষাতেও নজরকাড়া সাফল্য শৈপুর গ্রামের এই লড়াকু মেয়েটির। বাবা মীর নজরুল হোসেন আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না! বলেই ফেললেন -“এতদিন জানতাম আল আমিন মিশন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরীর কারখানা, কিন্তু আজ বুঝলাম, এতদিন যেটা জেনে এসেছি সেটা ভুল, আমার কাছে আল আমিন আগে মানুষ তৈরীর কারখানা।” একটু এগিয়ে তিনি আরো বলেন -” জনাব নুরুল সাহেবের মহানুভবতা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে, মেয়েকে দেখেই যেভাবে কাছে টেনে নিয়েছে তা সত্যিই অভাবনীয়।”

অঙ্কের প্রতি একটি প্রাকৃতিক টান রয়েছে নুরজাহানের। আর তাইতো সে বলে -“আমি একজন গণিতজ্ঞ হতে চাই।”
এ বাংলায় এ দেশে জন্ম নিক শতশত মাসুদুর নুরজাহানরা। যাদের আদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে সমস্ত প্রতিকূলতা। দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের মানচিত্রে ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্ব বাংলার নাম শুধু এই কামনা রইলো।