নিমতা কান্ডে গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিং

0
Prince Singh arrested in Nimta Kanda

টাইমস বাংলা নিউজডেস্ক : নিমতায় নবমীর রাতে বছর কুড়ির দেবাঞ্জন দাস খুনের ঘটনায় শনিবার মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিংকে গ্রেফতার করল পুলিশ|ঘটনার ১২দিন পর গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত| এদিন বিশাল মারু নামে মৃতের আর এক বন্ধুকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ| বিশাল মারুকে জেরা করার পরেই তথ্য পেয়ে প্রিন্সকে গ্রেফতার করে পুলিশ| সূত্রের খবর আগামীকাল তাকে আদালতে তোলা হবে|

ইতিমধ্যেই বিশাল মারুকে গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে ১১ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানা গেছে ধৃত এই যুবকই মূল অভিযুক্ত প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঘটনার পরে মৃতের ফোন ঘেঁটে কললিস্টে প্রথমেই প্রিন্সের নাম পায় পুলিশ| এরপর ঘটনার পর থেকেই প্রিন্স বেপাত্তা থাকায় তার প্রতি পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়| মূল অভিযুক্ত হিসাবে উঠে আসে প্রিন্সের নাম।

ছেলের মৃত্যু অস্বাভাবিক এই মর্মে এফআইআর দায়ের করেন দেবাঞ্জনের বাবা অরুণ দাস। সেখানে তিনি প্রিন্স সিং, শ্যাম, অনুষ্কা, বিশাল সহ দেবাঞ্জনের বান্ধবী তৃষা সরকারের নামও উল্লেখ করেছিলেন| অরুণবাবু ওই এফআইআরে জানিয়েছিলেন, দেবাঞ্জনের বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন নবমীর রাতে শ্যাম, অনুষ্কা, বিশাল তাঁরা সবাই দেবাঞ্জনের সঙ্গে ছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশ দেবাঞ্জনের বান্ধবী তৃষাকে জেরা করে নানা তথ্য হাতে পান তদন্তকারী আধিকারিকরা । জানা যায়, সেই রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবাঞ্জনের সঙ্গে নিজের লোকেশন শেয়ার করেছিল তৃষা| এছাড়াও তৃষাকে জেরা করে জানা যায়, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর অপরাধ জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার । কিছু অপরাধীর সঙ্গে ওঠাবসাও ছিল । দেবাঞ্জন খুনের ব্লুপ্রিন্ট তৈরির পিছনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল । যদিও তার নামে সরাসরি এর আগে কোনও অপরাধের অভিযোগ নেই । তবে, এই ঘটনায় তার নামেও অভিযোগ দায়ের হয়েছিল ।

এর মাঝেই মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিংয়ের মা ও তার দাদা দীপক সিংকে জেরা করে ফেলেছিল পুলিশ| সেখানে পুলিশ জানতে পেরেছিল, ৯ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ প্রিন্স। সূত্রের খবর, বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রথমে বিশালের বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। তারপরে সেখান থেকে বজবজে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠে। শুক্রবার সেখান থেকেও পালিয়ে যায় প্রিন্স। পুলিশকে সেখানে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়| এরপরেই শুক্রবার রাত থেকে দমদম, সল্টলেক, লেকটাউন-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এরপরই যোগাযোগ করা হয় বজবজ থানায়। দুই থানার যৌথ উদ্যোগে শনিবার বিকেলে পুলিশের হাতে ধরা পরে প্রিন্স।
শনিবারও দেবাঞ্জনের গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষা করেছে তদন্তকারীরা| সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশালের গ্রেফতারি তদন্তে গতি আনতে সহায়তা করবে বলেই মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা|