করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তর রেকর্ড বাংলাদেশে

0

প্রবাল আতিদ্য, টাইমস্ বাংলা, ঢাকা: করোনায় মৃত্যু এবং আক্রান্তর রেকর্ড গড়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। রবিবার একদিনে মৃত ও আক্রান্ত দুটোই এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এদিন মারা গেছেন ১৪জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন। মৃত বেড়ে ২২৮ এবং আক্রান্ত ১৪,৬৫৭। মৃতদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৬ জন নিয়ে মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ২ হাজার ৬৫০ জন। সুস্থতার হার ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ও মৃত্যু হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক আজাহারুল হকের মতে, বাংলাদেশ এখনও একটা নির্দিষ্ট জায়গায় থেকেই নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করে চলেছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নাগাগালের বাইরে। এ অবস্থায় যেসব জেলায় ১০ জন করোনা আক্রান্ত রয়েছেন, এমন জেলাগুলোকে গ্রিনজোন ঘোষণা করে জোন ভিত্তিক রেন্ডাম নমুনা পরীক্ষা করতে হবে।বর্তমানে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় যে হারে করোনা শনাক্ত হচ্ছে, তা যদি রেন্ডাম করা হয়, তাহলে শনাক্তর সংখ্যা আরও বাড়বে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ দেশের ৩৬ টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, ৫ হাজার ৭৩৮টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, ১ লাখ ২২ হাজার ৬৫৭টি। তাতে শনাক্ত হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৬৫৭জন। জোন ভিত্তিক নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হলে একদিকে যেমন শনাক্তর হার বাড়বে অন্যদিকে চিকৎিসা দেয়া সহজ হবে। এভাবে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা গেলে, একটা সময় আক্রান্তর সংখ্যা কমতে থাকবে। তা না হলে বাংলাদেশে করোনা পরীস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।

ঈদকে সামনে রেখে এদিন থেকে মার্কেট খুলতে শুরু করেছে। প্রথম দিনেই এলিফেন্ট রোড এলাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি জমে ওঠতে আরও দু’দিন সময় লাগবে। প্রথম দিনে জুতার দোকানগুলো তুলনামুলক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মার্কেট ও দোকানের প্রবেশপথে জীবাণুনাশক স্প্রে’র ব্যবস্থা রয়েছে।
রাজধানী ঢাকার রাস্তায় প্রায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে করোনার কারণে লকডাউন বা সাধারণ ছুটি চলছে, এমন পরিস্থিতি মনে হয়নি। স্বাভাবিক সময়ের মতোই যানচলাচল শুরু হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় অল্পবিস্তর যানজটেরও সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২৪ মার্চ থেকে দোকান বন্ধ থাকলেও ভাড়া ও কর্মচারির বেতন, বাড়ি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঋণগ্রস্ত তারা। দোকান খুললেও ফি বারের ঈদের মতো বেচাকেনার কোন সম্ভাবনা নেই। লোকজন কিছুটা বেড়িয়ে আসলেও, তাদের পিছু তাড়া করছে করোনা জম। অপর দিকে এদিনও দক্ষিণাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় আসছেন। ফেরিঘাটে ছিল ঢাকামুখো মানুষের ভিড়। খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। যে করেই হোক তাদের কর্মস্থলে পৌছাতে হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রশাসনও কিছুটা ছাড় দিচ্ছে।