এনআরসির বিষয়ে আরএসএস’র অবস্থান এবং উদ্দেশ্য

0
RSS's position and purpose regarding the NRC

মহম্মদ ঘোরী শাহ

★ভারতে এনআরসি একটি বিধিবদ্ধ জাতীয় প্রক্রিয়া। এতে দেশের মধ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিকরণের ব্যবস্থা রহেছে।
★ সম্প্রতি অসমে এই প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে।এতে দেখা গেছে এখানে উনিশ লক্ষ মানুষ যাদের কাছে নাগরিকত্বের যথাযোগ্য নথিপত্র নেই। এদের মধ্যে বারো লক্ষই হিন্দু।
★ মোদী সরকারের লক্ষ্য ছিল এনআরসির দ্বারা অসম থেকে বাংলা ভাষী মুসলীমদের বিতাড়িত বা নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে নিজ সংগনের হাত শক্ত করা।

ভারতে এনআরসি এখন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি জনিত আতঙ্কে ছয় জনের মৃত্যু ঘটেছে। নাগরিকত্ব প্রমাণ না দিতে পারলে ভয়ঙ্কর ডিটন্যাশন ক্যাম্পে তাদের থাকতে হবে। এছাড়া বিজেপির বিভিন্ন নেতা তথা অমিত শাহ্, দিলীপ ঘোষ প্রমুখের উগ্র বক্তব্য মানুষে আরো ভীত করে তুলছে।
ঠিক এই মুহুর্তেই ভারতের প্রধান হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আরএসএস এনআরসি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করল। সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, এনআরসি হিন্দুদের জন্য নয়, তাদের বিতাড়নের কোন প্রশ্নই নেই।
এনআরসি ভারতে বসবাসকারী সকলের উপর প্রযোজ্য। এটা আইন ভিত্তিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। অথচ মোহন ভাগবত তা অস্বীকার করলেন। তাঁর বক্ত্যের মূল বিষয় হল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হলে হিন্দুরা অবাধে ভারতে বাসকরতে পারবে।
বিশ্লেষকগন মনে করছেন, মোহন ভাগবতের এ বক্তব্য দেশোদ্রোহিতার সমতুল্য। এই বক্তব্য ভারতের জাতীয় সংহতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মোহন ভাগবত বিজেপির মুসলীম বিরোধী মৌলবাদী রাজনীতিতে আর এক অধ্যায় সংযোজন করলেন।
এমনিতেই ভারতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদীর উত্থান মুসলিমদের জন্য শুখকর নয়। তাঁর আমলে ভারতে মুসলীমরা সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে বৈষম্য ও সন্ত্রাসের স্বীকার হচ্ছে। তাদের হত্যা করা হচ্ছে। এর পর আইন প্রয়োগের বৈষম্য পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলবে। সর্বোপরি মোহন ভাগবতের এ হেন মন্তব্য সংবিধানের উপর কতটা আঘাত তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলোরই ভেবে দেখা উচিৎ।