সৌদির সংস্কারযাত্রা ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ

0

লিখেছেন    আতিক বিন নূর 

টাইমস বাংলা ডেস্ক : এক. ২০১৭সালে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে মুহাম্মাদ বিন সালমানের নাম ঘোষনার পর থেকেই সৌদিতে নতুন নতুন সারপ্রাইজ দেখানো হচ্ছে৷ধর্মীয় পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ, মেয়েদের ড্রাইভিং ও ফিল্ডে খেলা দেখার অনুমতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে সৌদিকে অত্যাধুনিক করতে ব্যাপক সংস্কার চলছে৷ গতকাল সৌদির “ব্লাক প্যানথার“ সিনেমায় প্রকাশ্যভাবে যুবক-যুবতীদের অশ্লীল নৃত্য (যা পশ্চিমা নগ্নতাকেও হার মানায়) সম্বলিত একটি ভিডিও সামনে আসে,যা দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি৷ মনে হচ্ছিলো,খোদার গজব আর বেশী দূরে নয়৷

এইতো গত বুধবারে ক্রাউনপ্রিন্স ও মসজিদুল হারামের সাবেক তারাবীহ ইমাম,সৌদি দায়ী শায়েখ আদিল আল-কালবানী আনুষ্ঠানিকভাবে তাশ খেলার অনুমতি দেন এবং তাশ চ্যাম্পিয়ানশিপদের মাঝে তাশ কার্ড বিতরণ করেন৷আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, শায়েখ আল-কালবানী তাশ আসরে স্বয়ং উপস্থিতির ছবিও নিজে টুইট করেছেন৷ হারামকে হালাল করার এ যেন মহাপ্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে৷

দুই.
সৌদির সংস্কারযাত্রায় বিশ্বব্যাপীও বিরাট প্রভাব পড়ছে৷আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আরবদের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে সৌদি ইসরাইলকে গাসেব বা,অবৈধ রাষ্ট্র দখলকারী আখ্যা দিয়ে আসছিল৷ কিন্তু, এখন প্রকাশ্যভাবে ইসরাইলের নিজ ভূমির মালিকানার স্বীকৃতি দিচ্ছে৷গত মাসে ক্রাউনপ্রিন্স বৃটেন সফর করেন৷ দ্যা আটলান্ট্রিক নামক এক ইন্টারভিতে (সাক্ষাৎকার)তিনি ইসরাইলের স্ব-ভূমির মালিকানার কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন৷
এর দ্বারা সৌদি আরব ইসরাইল,পশ্চিমা দেশসমূহ ও কিছু আরব দেশের খুব ঘনিষ্ট হলেও ফিলিস্তিন সমর্থিত রাষ্ট্র তুরষ্ক ও ইরান সহ কয়েকটি রাষ্ট্রের সাথে সংঘাতের পথ খুলে যাবে৷

ইরানের সাথে যুদ্ধের জন্য দেশটি বারবার ঘোষনা দিয়ে আসছে৷ইরানের মোকাবেলায় যে কোন মূল্যে দেশটি পারমানবিক শক্তি অর্জন করতে চায়৷ ইতোমধ্যে,আমেরিকা থেকে বেশ কিছু অস্ত্রও কিনেছে ৷কিন্তু, ইরানের তুলনায় তা খুবই কম৷ ইরান-সৌদি যুদ্ধ বেঁধে (খোদা নাখাস্তা) সৌদির পরাজয় হলে,শিয়া- সুন্নি বিরোধ চরমে পৌছবে এবং পবিত্র স্থানসমূহও খুব ক্ষতিগ্রস্থ হবে৷ কারন,শীয়া মতবাদে বিশ্বাসী ইরানীরা বহু সাহাবা ও ইসলামী নিদর্শনের প্রতি চরম বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করে থাকে৷

এছাড়াও কাতারের উপর অবরোধ ও গত বছরের শেষ দিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে উৎখাত করার চেষ্টায়ও সৌদি ক্রাউনপ্রিন্স সফল হননি ৷

তিন.
এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা নিয়ে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ৷সামান্য দূর্নীতির অভিযোগে আল-ওয়ালিদ বিন তালাল সহ ডজেনখানেক ধনকুব ও আন্তর্জাতিকভাবে ভাবে বিজনেসে খ্যাত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়৷পরবর্তীতে তাদের উপর কিছু বিধি-নিষেধ জারি করে চড়া মূল্যের বিনিময়ে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়৷এমনকি ক্ষমতা টিকিয়ে কয়েকদিন আগে ক্রাউনপ্রিন্স আপন মাকেও গৃহবন্দি করেছিলেন৷

সৌদির ভবিষ্যত কী? এ নিয়ে আন্তর্জাতিক
বিশ্লষকগণ এখনো কোন মন্তব্য করতে রাজি নন৷ তাদের মতে, এর জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে৷ তবে, এতটুকু বলা যায় যে, ক্রাউন প্রিন্স সৌদি আধুনিক করনের সংস্কারে সাক্সেস হলে,তিনি সহজেই একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন এবং সৌদিতে ধর্মীয় রিতি-নীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে৷ আর,ফেল হলে কী হবে, তা আল্লাহ মা’লুম৷

শেষ.
সৌদিতে রয়েছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন কা’বাতুল্লাহ, রওজায়ে মোবারক, মসজিদে নববী ও অসংখ্য ইসলামিক স্মৃতি৷ এগুলোর প্রতি ভালোবাসা আর মোহাব্বতের কারনে সৌদের প্রতি ভালোবাসা অন্য যে কোন দেশের তুলনায় কয়েক গুন বেশী৷ তাই, সৌদি নিয়ে দু‘ চার কলম লেখতে খুব কষ্ট হলো৷ আল্লাহ তা’য়ালা সৌদির অবস্থাকে দ্রুত সংশোধন করে দিন ,উম্মতে মুসলিমার মাঝে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ দান করুন ৷আমীন

কোবা কলোনি,পাহাড়ি শরীফ৷
৭ই এপ্রিল ২০১৮