মুর্শিদাবাদের এক হতদরিদ্র ঈমাম সাহেবের ছেলেই আজ আমেরিকার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী

0

 মিজানুর রহমান

ভোরের আজান হতেই বাবার হাত ধরে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ছোট্ট সাইদুর। আলো আঁধারি ভোরাকাশটা তখনও গম্ভীর।
ওই দূর ঝিলের পাড় থেকে ভেসে আসে কোকিলের ডাক। নিজ্ঝুম শৈশবের শান্ত বিবেকেরা তখনও ঘুমিয়ে আছে মায়ের আঁচল জুড়ে। সাইদুর ততক্ষণে অজু সেরে বাবার পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মৌয়াজ্জেনের তকবীর ধ্বনীতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদের মেম্বার । তাহারিমা বাঁধা। তারপর সিজদা, রুকু, সালাম ফিরিয়ে বাবার হাত ধরে আবারও গুঁটি গুঁটি পায়ে দুচালা কুঁড়ে ঘরে ফিরে আসা।

Scientist Saidur Rahaman

সকাল হতেই গঙ্গার বুক বেয়ে ভেসে আসে মাঝি মোল্লাদের ভাঁটিয়ালির সুর। শান্ত ছেলের দুরন্ত বিবেক তখন একটু খেলতে চায়! তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বইখাতা টেনে পড়তে বসা। হয়তোবা একদিন তাঁর জীবনের এই গল্প শোনাবে তাই।

১৯৭৬ সালের ২রা জানুয়ারির কথা। মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদীঘি ব্লকের অন্তর্গত এক প্রত্যন্ত গ্রাম গাঙগাড্ডাতে বাবা আব্দুল হাকিম ও মা রহিমা বিবির কোল আলো করে পৃথিবীতে আগমন বিজ্ঞানী সাইদুর রহমানের। বাবা মহল্লার মসজিদের ঈমাম সাহেব। মা গৃহবধু। মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা নিয়ে কোনক্রমেই সংসার অতিবাহিত হয় ঈমাম সাহেবের। সাত সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এই সাতশোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।
ছয় পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে কোলে পিঠে করে লালন করতে হয় মা রহিমাকে। সাইদুর বড় আদরের ছোট ছেলে। অনেক সাধনার পাওনা যে সে! তবুও দারিদ্র্যতার ক্ষিপ্র ছোবল কেড়ে নিয়েছে একটু আদর! একটু ভালোবাসা ! আর একটু স্নেহ!

ভাই বোনের সঙ্গে কাঁদা মাটি খেলতে খেলতে কোলে পিঠে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে সাইদুর। হামাগুড়ি দিয়ে কখনো বা একটু মায়ের পরশ পাওয়ার চেষ্টা। অসহায় মায়ের সিক্ত আঁচল মুড়ে নেয় সাইদুরকে। মায়ের বুকে মাথা রেখে মাতৃস্নেহের পরশ উপভোগ করা। তারপর আবারও ভাই বোনের সঙ্গে কাঁদা মাটি খেলা।

অ ক খ পড়তে পড়তে সবে প্রাথমিক স্কুলের দরজায় পা দিয়েছে সাইদুর। পাতা ওয়ান থেকে চতুর্থ শ্রেনীর গণ্ডি না পেরোতেই সাইদুর হয়ে ওঠে শিক্ষক শিক্ষিকাদের চোখের মণি। কিন্তু ঈমাম সাহেবের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দশ বছরের এক সন্তানকে রাতদিন ভাবাচ্ছিল, না জানি হাইস্কুলের দরজায় আর পা দেওয়া হবে না সাইদুরের। কিন্তু অসহায় বাবার আপ্রাণ প্রচেষ্টা আর দশ বছরের এক ক্ষুদের প্রবল ইচ্ছাশক্তি অবশেষে সাইদুরকে নিয়ে গেল মুর্শিদাবাদের নাচনা হোসেনিয়া হাইমাদ্রাসাতে। ১৯৮৭ সাল! সাইদুর তখন মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার অঙ্গনে বেড়ে ওঠা পঞ্চম শ্রেণীর এক মেধাবী ছাত্র।
মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার পাশা পাশি দরিদ্র পিতার মাঠের কাজগুলোও নিজের কাঁধে তুলে নেয় সে। বাবার ইমামতিতে সংসার নির্বাহ আর কৃষি জমি থেকে যেটুকু উপার্জন হয় সেটা দিয়েই কোনক্রমে বাইবোনেরা পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে থাকে।

আর্থিক দুর্বলতার কারনে এক এক কয়েজনের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেল। ভায়েরা বেছে নিলো দিনমজুরের কাজ। কিন্তু নাছোড়বান্দা সাইদুর ও তার অন্য এক মেধাবী ভায়ের প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর পিতার পড়াশোনার প্রতি দরদ তাদেরকে কাজে লাগাতে পারলো না । সিদ্ধান্ত নেওয়া হল মাদ্রাসা থেকেই মাধ্যমিক পাশ করবে সাইদুর।
সেই মতো পড়াশোনাটাকে গৌন রেখে জমিজমার কাজেই সাইদুর বেশি সময় দিতে লাগলো।
১৯৯২ সাল, মাধ্যমিক পরীক্ষা ছেলের। মাঠে পড়ে আছে কাঁঠা দশেক জমির ধান। বাবার আবদারে সাত সকালে উঠেই সাইদুর পৌঁছে যায় ধাত ক্ষেতে। মাথা বোঝাই ধানের বোঝা নিয়ে বাড়িতে রেখে তবেই মাধ্যমিকের পরীক্ষা দিতে যাওয়া সাইদুরের।
তারপর কিছুদিন বাদে ফলপ্রকাশ। দেখা গেল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ধানের বোঝা বওয়া সেই ছেলেটিই এলাকার সেরা ফলাফল করেছে। নাচনা মাদ্রাসা ও পার্শবর্তী এলাকাতে সাইদুর তখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ধিরে ধিরে আত্ম বিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন গাঙগাড্ডার ঈমাম সাহেব আব্দুল হাকিম।
ছেলের আশানুরুপ ফলাফল ও এলাকার মানুষের উৎসাহ উদ্দিপনা সাইদুরকে পড়াতে উদ্বুদ্ধ করে বাবার। মাদ্রাসার গণ্ডি পেরিয়ে সাইদুরকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করা হল বোলপুর হাইস্কুলে। সেখানেও মুর্শিদাবাদের এক হতদরিদ্র ঈমাম সাহেবের ছেলে সাইদুর রহমানেরই জয়জয়াকার।
১৯৯৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নজরকাড়া রেজাল্টের পর পদার্থবিদ্যা নিয়ে সাইদুরকে ভর্তি করা হল কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। কিন্তু আর্থিক প্রতিবন্ধকতা স্বপ্ন দেখা এক মুর্শিদাবাদের আঁচপাড়া গ্রামের তরুণ মেধাবী ছাত্রর কাছে বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বাবার ঈমামতির সেই ৭০০ টাকাই তখন সাইদুরের শেষ ভরসা। কারমাইকেল হোস্টেলের খাওয়ার বিল পরিশোধ করতে তাকে ছুঁটে যেতে হয় বাড়িতে। অসহায় বাবার সারা মাসের মেহনতি মাত্র সাতশো টাকা ছেলের হাতে তুলে দেন আব্দুল হাকিম সাহেব। জান ফেটে যায় সাইদুরের। অশ্রুশিক্ত চোখ চেপে ডুগরে কেঁদে ওঠে সে। ক্ষুধার্ত বাবা মার শেষ সম্বল টুকুও যেন ছিঁনিয়ে নিতে হয় নিরুপায় এক স্বপ্নওয়ালাকে। চোখের জল আটকাতে পারে না সাইদুর। মায়ের কোলে মাথা রেখে সাইদুর বলে ওঠে-“তোমার সন্তান তোমাদের খুব কষ্ট দিচ্ছে তাইনা মা?” মায়ের ভেঁজা আচল গিয়ে পড়ে ছেলের চোখে। মাতৃস্নেহ সব দুঃখ কষ্ট নিভিয়ে আবার সতেজ করে তোলে সাইদুরকে পরবর্তী ম্যারাথনের জন্য।

সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ১৯৯৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে ফাস্ট ক্লাস নিয়ে সফল হল সে। তারপর ২০০০ সালে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে মাস্টার ডিগ্রী পাশ করে গ্রাজুয়েট আপ্টিটিউট টেস্ট এর মাধ্যদিয়ে আইআইটি বোম্বেতে গবেষণার জন্য পাড়ি দেওয়া। কিন্তু আইআইটিতে যাওয়ার পর এক নতুন আলোর সন্ধান পেল মুর্শিদাবাদের আঁচপাড়া গ্রামের অতি সাধারণ এই ছেলেটি। তাইতো আজ আমি(লেখক) আপনাদেরকে তাঁর সেই অসাধারণ হওয়ার গল্প শোনাতে বসেছি। পিছিয়ে পড়া সমাজের তরুণ প্রজন্ম যদি তাঁর হার না মানা জীবনের এই গল্প থেকে এতটুকুও অনুপ্রেরণা পায় সেটাই আমার বড় তৃপ্তি ।

আইআইটি বোম্বেতে যাওয়ার পর সাইদুর রহমানের কাছে একটি নতুন দিগন্ত খুলে গেল।মাস চারেকের মধ্যেই পরীক্ষা দিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ পেয়ে যায় সে। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ সাইদুর রহমান পাড়ি জমালেন জার্মানের উদ্দেশ্যে। সেখানে হাইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটিতে অ্যাটোমিক ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করলেন দীর্ঘ পাঁচ বছর। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মুর্শিদাবাদের গাঙগাড্ডা গ্রামের এক নগণ্য ঈমাম সাহেবের ছেলে সাইদুর রহমানকে।

তারপর ২০০৫ সালে সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসাবে কাজ করতে পাড়ি দিলেন ইউরোপ মহাদেশের ফিনল্যান্ড। সেখানে তিনবছর কাটিয়ে ২০০৮ সালে উড়ে গেলেন সুদূর আমেরিকা মহাদেশ। গবেষণার সুযোগ পেলেন এমন একটি ল্যাবে যার নাম শুনলে হয়তো আপনিও শিউরে উঠবেন। হ্যাঁ, হিরোসীমা ও নাগাশাখির সেই ভয়াবহ পারমাণবিক বিস্ফোরণের কথা একবার চোখ বুজিয়ে কল্পনা করে দেখুনতো! কিছু দেখতে পান কিনা!?দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য প্রবল প্রতাপশালী আমেরিকা পরমাণু গবেষণা চালাতে স্পেশালী তৈরী করেন “লস আলমোস ন্যাশনাল ল্যাব”। যে ল্যাবে জন্ম দেওয়া হয়েছিল হিরোসীমা ও নাগাশাখির ফ্যাটম্যান ও লিটিল বয়কে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর তিনি অ্যাটোমিক ক্লক ও লেজার নিয়ে গবেষণা করলেন দুর্ধর্ষ ইতিহাসের সাক্ষী এই ল্যাবটিতে।
তারপর ২০১২ সালে আবারও গন্তব্য পরিবর্তন। এবার তিনি সুযোগ পেলেন “জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজিতে” । সেখানে তিনি ২০১৫ সাল পর্যন্ত “ফেমটো সেকেন্ড লেজার প্রজেক্টে” প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর হিসাবে মুখ্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলোজিতে তাঁর প্রজেক্টের অনবদ্য সাফল্য বিশ্বের প্রথম সারির একটি কোম্পানীর নজর কাড়ে। সাল ২০১৫ , জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানী তাঁকে উচ্চ বেতন দিয়ে নিজেদের গবেষণার কাজে নিয়োগ করে। সেখানে জনসন এন্ড জনসন ভিসনের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টে চোখ নিয়ে গবেষণা করছেন মুর্শিদাবাদের এই বিরল প্রতিভা।মূলত তাঁর গবেষণার বিষয়, লেজার সার্জারীর মধ্য দিয়ে কিভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা যাবে।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান পৌঁছে গেছেন বিজ্ঞানের উচ্চ শিখরে। কিন্তু গ্রামের চেনা জানা আপন মানুষগুলোকে কিন্তু তিনি ভুলে যাননি। ভুলে যাননি অসহায় আর দারিদ্র্যতার বেত্রাঘাতে মুর্ছে যাওয়া মেধাদের কথা।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানী সাইদুর রহমানের মনে পড়ে যায় আল আমিন মিশন ও সেই পরিবারের প্রথম সদস্যদের কথা। ১৯৯৫ সাল নাগাদ কলকাতার কারমাইকেল হোস্টেলে থাকার সুবাদে পরিচয় ঘটে আল আমিন মিশন পরিবারের প্রথম সদস্য দিলদার হোসেনের সাথে। তারপর ধীরে ধীরে আল আমিন মিশনের কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে অবহিত হওয়া। আপন করে নেওয়া আল আমিনকে।
এখনো চোখ বোজালেই তাঁর মনে পড়ে সেই বিল বইএর কথা। আল আমিন মিশনের দানের বিল বই নিয়ে মুর্শিদাবাদের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে জাকাত সংগ্রহ করতেন বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান। কলকাতায় ফিরে যে টাকা তুলে দিতেন আল আমিন পরিবারের সদস্য দিলদার হোসেনের হাতে। আর তাইতো আল আমিন মিশনকে সে অনেক কাছ থেকে জানে ও চেনে।

একমাত্র শিক্ষায় পারে পিছিয়ে পড়া সমাজকে টেনে উপরে তুলতে।এই নীতিবোধ থেকেই রাজ্যের শিক্ষা আন্দোলনে এক অগ্রণী ভুমিকা পালন করছেন বিজ্ঞানী সাইদুর রহমান। মুর্শিদাবাদের ওমরপুরে গড়ে তুলেছেন ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমী আল আমিন মিশন। পাশে পেয়েছেন তাঁরই সহধর্মিণী জলি খাতুনকে। ২০০৫ সালে এক সুতোয় বাঁধা পড়েন সাইদুর রহমান ও লেডিব্রাবোন কলেজের প্রাক্তনী তথা ওমরপুরের এই মেধাবী ছাত্রী জলি।
স্বমীর পাশে তিনি সবসময় ছায়া হয়ে আছেন। “এই ক্ষণিক জীবনে পিছিয়ে পড়া সমাজকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। যেমনভাবে তোমার জীবন অতিবাহিত হয়েছে, তুমি কি তাদের জীবন নিজের কাঁধে নিতে পারবে না, যারা তোমার মতই অসহায়ভাবে প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়?” স্থির দৃষ্টি নিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করে জলি। আমেরিকার এক নামী স্কুলের শিক্ষিকা সে। আর তাইতো নিজের উপার্জিত অর্থ পুরোটাই দিয়ে দেন আল আমিন মিশন থেকে ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমীতে ভর্তি হওয়া ২০% অসহায় হতদরিদ্র মেধাবী ছাত্রদের জন্য।

ভোর হলেই গাঙগাড্ডা গ্রামে আজও শোনা যায় মৌয়াজ্জেনের আজান। আজও গম্ভীর থাকে আলো আঁধারি ভোরের আকাশটা। আজও দূর ঝিলের পাড় থেকে ভেসে আসে কোকিলের ডাক! নিজ্ঝুম শৈশবের শান্ত বিবেকেরা আজও ঘুমিয়ে থাকে মায়ের আঁচল জুড়ে। মৌয়াজ্জেনের তকবীর ধ্বনীতে আজও মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদের মেম্বার । সকলে তাহারিমা বাঁধে। সিজদা করে, তারপর সালাম ফিরিয়ে বাড়ির পথে সকলেই। কেবল বাবার হাত ধরে গুঁটি গুঁটি পায়ে দুচালা কুঁড়ে ঘরে আর ফেরা হয়না সাইদুরের। বাবাযে ছেলেকে এতিম করে অনেক দূরে চলে গেছে..অনেক দূরে…ফারিস্তাদের দেশে….

ভাই বোনদের সঙ্গে আর কাঁদা মাটি খেলা হয়না তাঁর। হামাগুড়ি দিয়ে একটু মায়ের পরশ পাওয়ার চেষ্টা আজ বৃথা। অসহায় মায়ের সিক্ত আঁচল আজ মুড়ে নেয় না সাইদুরকে। মায়ের বুকে মাথা রেখে মাতৃস্নেহের পরশ উপভোগ করা যায় না আর। মা যে আজ আকাশের তারা হয়ে গেছে…