পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অধিকারের কথা বললেই সাম্প্রদায়িক? ইমাম মৌলানারা বিজেপির ভাষায় কথা বলছেন না তো?

0

আবুল কালামঃ সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতিতে আব্বাস সিদ্দিকীর উত্থান ও তাঁর সঙ্গে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির জোট বাংলার রাজনৈতিক মাঠে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে আব্বাস সিদ্দিকী দক্ষিনবঙ্গের কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করলেও মুলস্রোতের গণমাধ্যমে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু হায়দ্রাবাদের মিম সাংসদ ও বিখ্যাত বক্তা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি খোদ স্বয়ং নিজেই এসে জোট ঘোষণা করার পর তিনি মুলস্রোতের গণমাধ্যমেরও নজর কেড়েছেন।

এর প্রতিক্রিয়াতে অবশ্য রাজ্যের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় অরাজনৈতিক বলে পরিচিত কিছু সংগঠনও মাঠে নেমে পড়েছেন। ভোট কাটাকাটির ফলে বিজেপির সুবিধা করে দেয়ায় অভিযোগ তারা অহরহ করছেন। অবশ্য এই সব ধর্মীয় বা ইমাম সংগঠনগুলো শাসকদলের তাবেদার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কিন্তু সবথেকে মারাত্মক বিষয় হল তাঁরাও এই জোট বা ওয়াইসিকে সাম্প্রদায়িক তকমা দিচ্ছেন।

কিন্তু আব্বাস সিদ্দিকী ও ওয়াইসি দুজনেই মুসলিম সহ আদিবাসী দলিতদের কথা বারেবারে বিভিন্ন বক্তব্যে তুলে ধরেন। তাঁদের এই জোটে তাই আদিবাসী দলিতদের কিছু সংগঠন থাকবে বলেও মনে করা হচ্ছে।মিমের বেশ কিছু দলিত প্রতিনিধিও নির্বাচিত আছেন অন্য রাজ্যগুলিতে।

সেকুলার লিবারেল নাগরিক সমাজ থেকে নিয়ে বিজেপি, সকলের একটা ব্যাপারে মিল দেখা যায় যে মুসলিম কোন স্বাধীনচেতা নেতার উত্থান তাঁরা মেনে নিতে পারেন না। তাকে সহজেই সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে দেন। বিজেপি পন্থীরা তো আরো একধাপ এগিয়ে দেশদ্রোহী পাকিস্তানী বাবরের বংশধর সহ নানা ‘বিশেষণে’ ভূষিত করেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় খোদ মুসলিম সমাজেরই ইমাম মৌলানারা সেই বিজেপি তথা ক্ষমতাসীনদের ভাষাতেই ওআইসি- আব্বাসের বিরোধিতা করছেন।ওয়াইসি আব্বাসের বিরোধিতা করার অন্য রাজনৈতিক কারণ বা ইস্যু হতে পারে কিন্তু বিরোধিতা করার ভাষা যদি ক্ষমতাসীন বা বিজেপির মত হয় তাহলে ইমাম মৌলনাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতাই ধরা পড়ে।

অথচ সেই ইমাম মৌলানা পীররজাদাদের যখন কোন উচ্চবর্ণের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে তখন তাঁকে আর সাম্প্রদায়িক তকমা দেয়া হয়না। হালের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীই এর উদাহরণ। অর্থাৎ এটা প্রকারান্তরে যেন বলতে চাওয়া হয় মুসলিমদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন অধিকার নেই। ধর্মীয় সমাজের নেতারা যত তাড়াতাড়ি এটা বুঝবেন ততই মঙ্গল।