আমফান বিধ্বস্ত শুলকুনি গ্রামের মানুষের কাছে খাবার ও জল নিয়ে হাজির স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কর্মচারী সংগঠন

0

পল্লব ঘোষ,টাইমস্ বাংলা: ঘূর্ণিঝড় আমফানের ফলে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলের গরীব মানুষরা। ভিটে মাটি হারিয়েছেন, নেই কোন আশ্রয়ের জায়গা, খাবার তো দূর, একফোঁটা জলের জন্য হাহাকার করছেন বিধ্বংসী ঝড়ের কবলে পড়া মানুষেরা। সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা এখনো অনেক জায়গায় পৌঁছোয়নি। এমনটাই দেখা গেলো উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার বহু জায়গায়। রাজ্য সরকারের সহায়তা না পৌঁছালেও এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সরকারি প্রতিস্ঠানও।

রাষ্ট্রায়ত্ত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কর্মচারী সংঠনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনার হাসনাবাদের কার্যত বানভাসি শুলকুনিতে পৌঁছে ৩২০ টি পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হল। সংগঠনের বসিরহাট জোনাল সেক্রেটারি মোস্তাফা কামাল বৈদ্য টাইমস বাংলাকে জানালেন, ‘অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে আছেন এখানকার মানুষ, ঝড়ে ডাসা নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা জলমগ্ন। কোনো ত্রাণশিবিরের অস্তিত্ব নেই এখানে। ঝড়ে ভেঙে পড়া বাঁধ সোজা করে প্লাস্টিক দিয়ে কোনমতে জোড়া তাপ্তি লাগিয়ে তারা থাকছেন। একফোঁটা খাওয়ার জলের জন্য তারা হাহাকার করছেন। আমাদের তরফ থেকে শুলকুনি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বৈদ্যমঙ্গলের ঘাট, শুলকুনি পূর্বপাড়া, শুলকুনি কালীবাড়ি এলাকার ৩২০ টি পরিবারের হাতে চিড়ে,ছাতু,চিনি, বিস্কুট বাচ্চার খাওয়ার জন্য গুঁড়ো দুধ, এক লিটার জলের বোতল, মোমবাতি ও সুরক্ষার জন্য সাবান তুলে দেওয়া হয়।”

তবে তার দাবি যে পরিমান মানুষ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ও তাদের এই মুহূর্তে যা চাহিদা সেই তুলনায় অনেক কমই তারা করতে পেরেছেন। এলাকায় খাবার জলের সমস্যা প্রবল। তাই তাদের এই কষ্ট সামান্য হলেও লাঘবের লক্ষ্যে মোস্তাফা কামাল বৈদ্য চলতি সপ্তাহে তার কিছু বন্ধুদের সঙ্গে ঐ এলাকায় গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ১৫০ পরিবারের হাতে ২০ লিটার জলের জার তুলে দেবেন বলে তিনি জানান। এই কঠিন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য টাইমস বাংলা মোস্তাফা কামাল বৈদ্য সহ স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কর্মচারী সংগঠনকে স্যালুট জানায়।