মৃত্যুর শেষ প্রান্তে সিরিয়ানরা

0

পাঠকের কলমে, টাইমস বংলা:শোয়াইব (আ:) দেশ আজ তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রান্তে। সম্পূর্ণ ভাবে মৃত্যু নগরীতে দাঁড়িয়ে। চারিদিকে হাহাকার! বারুদের ঘ্রাণ নিজের মা বোন ভাইয়ের লাশের উপর দিনের পর দিন শুয়ে আল্লাহ কে স্মরণ করা। কেউ মা, বোন, ভাই, বাবা, সন্তান হারিয়েছে। কেউ নিজের প্রান টা নিয়ে পৃথিবীর ঠিকানা খোঁজার জন্য দৌড়াচ্ছে। ভাগ্যের পরিহাস পৃথিবী আজ শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে। কেউ বলছেন গজব এসেছে। আবার কেউ আল্লাহর কাছে হাত তুলছেন সিরিয়ার আসাদের উপর গজবের। জানিনা মৃত্যুনগরী কবে শান্ত হবে।

একবিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ যখন চন্দ্র গ্রহে পাড়ি দিচ্ছে। ইউনিসেফের মতো সংস্থা সারা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনে নিজেদের কে উজাড় করছেন ঠিক তখনই সিরিয়া নামক দেশটিকে পৃথিবীর মানচিএ থেকে তুলে দেওয়ার জন্য আমেরিকা আর রাশিয়া নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন কারা আগে ধবংস করতে পারে পবিত্র ভূমি। নিজেদের ক্ষমতাকে বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরাই হলো মূল উদ্দেশ্য। এটা কে Civil war বলা হয়। তারিখ টা ২০১২ সালের ১ লা জুন। সেনাবাহিনী কে নামিয়ে সুন্নি গোষ্ঠী কে নির্মুল করা ছিলো মূল উদ্দেশ্য।

বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ইবলিশ আসাদ তার নিজের দুর্নীতি আর ব্যাবিচার ঢাকতে গৃহযুদ্ধের জড়িয়ে পড়েন। সিরিয়া সরকারের অর্থাৎ সিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সুন্নি সম্প্রদায়ের বাকযুদ্ধ। নরকীট আসাদ সেটিকে গৃহযুদ্ধে টেনে নিয়ে যান

সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হলো আলেপ্পা ৬৫% সুন্নি নিয়ন্ত্রিত শহর থেকেই দুর্নীতিতে জর্জরিত আসাদ কে হঠানোর জন বিপ্লব গোঠিত হয় আলেপ্পাবাসী সরকার বিরোধী নয় আসাদ বিরোধী স্লোগান আন্দোলন করতে থাকে। একটাই দাবি তোলেন আসাদ কে সরিয়ে আসাদ সরকারের খাদ্য মুন্ত্রি বা আইন মন্ত্রিকে রাষ্ট্রপ্রধান করা হোক। দুর্নীতিবাজ আসাদ তার ক্ষমতা অন্য কাউকে না দেওয়ায় আনড় থাকে। বলা বাহুল্য সেনা প্রধানের সঙ্গে আসাদের বেক্তিগত সম্পর্ক নিবিড়! তিনিও শিয়াপন্থি। আসাদ সেনাবাহিনী তথা গোপন ভাবে রাশিয়ার সাহায্যে নিয়ে আলেপ্পা শহর টিকে জাহান্নাম বানাতে সঙ্কোচ করননি। শহরটিতে চার লাখের বেশি সিভিলিয়ানস হত্যা করে। বেশির ভাগ শিশু এবং নারী। রাষ্ট্রপুঞ্জ তুরস্ক এবং ফ্রান্স সৌদি আরব কয়েকতফা আলোচানায় বসতে চাইলে আসাদ রাজি হননি। আলজেজিরার তথ্য অনুযায়ী ইরান এবং রাশিয়া আসাদ কে আলোচনায় বসতে মানা করেন। এদিকে আমেরিকা তার অস্ত্র ভান্ডার কে ব্যাবহার করতে ভুল করেন নি। যুদ্ধটা মূলত আমেরিকা বনাম রাশিয়ার মধ্যে। কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে সিরিয়া। নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের আস্তানা। দুই দেশের মূল মন্ত্র ইসলাম কে বিকৃতকরা এবং সিরিয়ার মুসলিম কে হত্যা করা। আসাদ কে পাঁচিলে মতো রক্ষা করছে আরেকটি দেশ ইরান।

আমি হয়তো হিটলারের শাসনকাল দেখেনি তবে আসাদ নামক হিটলারের শাসনকালের মধ্যেই বেঁচে আছি। আলেপ্পা ধবংসলীলার কয়েকমাস ক্ষান্ত ছিলো রাশিয়া এবং আমেরিকা। আসাদ হয়তো জেনে গেছে ইতিমধ্যে আমার শেষ বিচার লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফির মতো হবে। দেশটি যখন ধীরে ধীরে শান্তির দিকে হাতছানি দিচ্ছে ঠিক তখনই রাশিয়ার সাথে কূটকৌশলে আবার সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ঘুউতা শহরকে বেছে নিলেন। ঘুউতা শহর যেন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিদ্রোহী বাহিনী অধ্যুষিত অঞ্চলটিতে সরকার ও তাদের মিত্র রুশ বাহিনীর লাগাতার বিমান হামলায় গত রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত অন্তত ৪০৩ জনের প্রাণ ঝরেছে, যাদের মধ্যে ১৫০ জনই শিশু। স্মরণাতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। লাগাতার হামলায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছে বা আহত হয়েছে আরও ২ হাজার ১২০ জন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার বোমা হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আড়াই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার ভোর না হতেই খবর মেলে ৪০৩ জনের প্রাণহানির, যাদের মধ্যে ১৫০ জনই শিশু এবং বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ঘুউতার বাসিন্দারা বলছেন, শহরের বেশিরভাগ বাসিন্দাই এখন বাস্তুচ্যুত। এখন তারা না কোথাও নিজেদের লুকোতে পারছেন, না করতে পারছেন অন্য কিছু।

রাফাত আল-আবরাম নামে একজন গাড়ির মেকানিক বলেন, তিনি যে সড়ক দিয়ে তার গ্যারেজে যান, সে সড়ক গত কয়েকদিনের হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেজন্য এখন কিছু সরঞ্জাম নিয়ে তিনি এখানে-ওখানে ঘুরে ঘুরে কাজ করেন।

তিনি বলেন, আমার চোখের সামনে দেখলাম মা-বাবারা তাদের সন্তানদের মরদেহ বুকে জড়িয়ে আহাজারি করছেন। তাদের গাড়িতে তুলতে তুলতে অনেক সময় আমিও কান্না থামাতে পারি না। যে পরিস্থিতি দেখতে হচ্ছে, একেবারেই ভয়ানক ও মর্মান্তিক।

নিসমা আল-হাতরি নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বাড়ি পরিষ্কার করতে হয়, কারণ পাশের কোনো ভবনে গোলাবর্ষণের কারণে আমাদের বাড়িটাই কংক্রিট বা ভাঙাচোরা আবর্জনায় ভুতুড়ে হয়ে ওঠে। তারপর আমরা কোনো একটি কক্ষে লুকিয়ে থাকি। আসলে আমরা বুঝতে পারছি না, এটা কি একসঙ্গে বাঁচার চেষ্টা, নাকি মরার ফাঁদ। ২০১৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার পর কয়েকদিনের মধ্যে এতো বেশি বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এটাই প্রথম।

রাশিয়া আর ইরান হচ্ছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী জড়িত – আর্থিক, সামরিক, রাজনৈতিক সব দিক থেকেই।যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত কম জড়িত – কিন্তু এ কারণেই সিরিয়ার ঘটনাবলীর ওপর তাদের স্পষ্ট বা নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা নেই।তুরস্ক হচ্ছে আরেকটি জড়িত দেশ “”কিন্তু তারা বিদ্রোহীদের সমর্থন করলেও কুর্দিদের ঠেকাতে বেশি আগ্রহী।দক্ষিণে আছে ইসরায়েল – তারা লেবাননের ১৬ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় যেমন, তেমনি সিরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রধানত নিরব ভুমিকা রেখে চলেছে।

তারা সিরিয়ায় কথিত ইরানি ঘাঁটি এবং হেজবোল্লাহর অস্ত্র সরবরাহের মত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আক্রমণ সীমিত রেখেছে।

বিশেষজ্ঞ গিভর্জ মিরজায়ান লিখেছেন, ‘সিরিয় সেনাদের সাম্প্রতিক সাফল্য এসেছে রাশিয়ার সমর্থনের কারণেই। সিরিয়ার তারতাস বন্দরে রাশিয়ার একটি নৌঘাঁটি রয়েছে। রাশিয়া ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) মোকাবেলা করতে বিকল্প একটি জোট গঠন করছে যাতে এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি মধ্যএশিয়ার জন্য কোনো হুমকি হয়ে উঠতে না পারে। এই অঞ্চলটিকে রাশিয়া তাদের নিজস্ব আঙিনা হিসেবে বিবেচনা করে’।

সাতানোভস্কি বলেন, আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশারের সরকার ইরানি যোদ্ধা, লেবাননের হিজবুল্লাহ সেনা, ইরাকের মেহেদি আর্মি এবং আফগানিস্তানের শিয়া হাজারা যোদ্ধাদের সমর্থনে দেশটির বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এরা অনিয়মিত যোদ্ধা থাকলেও পরে তাদেরকে যথারীতি সামরিক কায়দায়ই তাদের গঠন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন যে এখানে হয়তো আরেকটি আলেপ্পোর মত অবস্থা তৈরি হতে পারে।বলা বাহুল্য ইজরায়েলের একটি বিমান কে গুলি করে নামিয়েছে সিরিয়ান সেনা

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে ২০১৫ সালের পর একদিনে বেসামরিক লোক নিহত হবার এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। ইরান ইজরাইল হিজবুল্লা, তুরস্কে রাশিয়া, আামেরিকা কুর্দিরা যে ভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে হয়তো তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের হাতছানি দিচ্ছে

———-

ফারুক হোসেন