স্বৈরাচারী শাসন কাল সৌদি আরবে

0

ফারুক হোসেন, টাইমস্ বাংলা : যুগ যুগ ধরে প্রতিপক্ষ বা অপছন্দের ব্যক্তিকে নানাভাবেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে রাষ্ট্রশক্তি। ভারত তথা পশ্চিমা দেশ গুলিতে এমন হয়। ভারতে যেমন জাস্টিস লোহিয়াদের মতো বিচারক/আইনজীবীদের ও সরতে হয়েছে ! রাজনীতির ইতিহাসে প্রথম গুম হওয়া ব্যক্তি কে; এটা নিয়ে জানার আগ্রহ ছিল। কিন্তু এর সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। প্রকৃতপক্ষে এ রকম তথ্য পাওয়া সম্ভবও নয়। তবে ঐতিহাসিকদের কেউ কেউ বলে থাকেন, রোমান ও গ্রিক সভ্যতার আমলে এমন কিছু উদাহরণ পাওয়া যেতে পারে। ওই সময় যাঁরা অভিজাত শাসক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করতেন, তাঁদের কারও কারও জীবন নাশ হয়েছিল, যেমন সক্রেটিস। হয়তোবা কেউ গুম বা গুপ্তহত্যার শিকারও হতে পারেন। ইতিহাসে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু গুমের বিষয়টি নজরে আসতে থাকে গত শতকের আশির দশকের শুরুতে। ওই সময় চিলিতে কিছু জেলবন্দী হঠাৎ করেই হারিয়ে যান। এরপর তো দক্ষিণ আমেরিকায় গুমের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। প্রতিবেশি দেশ ‘”বাংলাদেশে”‘ তো সরকার সমালোচকদের গুম খুন হতে হয়।

সপ্তদশ, অষ্টাদশ, উনবিংশ, বিংশ, একাবিংশ শতকেও নাগরিকদের গুম করে দেওয়ার অসংখ্য নজির আছে। এর সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা হচ্ছে সৌদি শাসকের সমালোচক জামাল খাসোগি নিহত হওয়া। এ ধরনের গুম বা খুনের ঘটনা আরবের রাজনীতিতে বিরল নয়। এক ইসরায়েলের হাতেই অসংখ্য ফিলিস্তিনি গুম হয়েছেন বা গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। আর লিবিয়া থেকে ইরান পর্যন্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমানোর জন্য গুম–খুনের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। তবে এসব গুম, খুন, গুপ্তহত্যাকারী কোনো শাসকই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি। মুয়াম্মার গাদ্দাফি বা সাদ্দাম হোসেন নিকট অতীতের নিষ্ঠুর উদাহরণ। আর হিটলারের পরিণতিও আমরা দেখেছি। ইতালির মুসোলিনি বা রোমানিয়ার চসেস্কুর পরিণতিও খুব একটা ভালো হয়নি। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, যুগে যুগেই গুম, খুন,

সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগির মৃত্যুর কথা ১৭ দিন পর স্বীকার করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেছে, খাসোগি আর বেঁচে নেই। এই স্বীকারোক্তির সঙ্গে রিয়াদের ব্যাখ্যা, খাসোগিকে হত্যা করা হয়নি। তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে ‘মারামারিতে’ তিনি নিহত হন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রথমবারের মতো সৌদি আরব খাসোগির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। বলাই বাহুল্য খাসোগির এ ঘটনার পর সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এর খুব একটা প্রতিক্রিয়া হবে না। ভোগবাদী সৌদিদের কোনো কিছুতেই খুব একটা হেলদোল নেই। নতুবা বছরের পর বছর অপশাসন সৌদিতে টিকে থাকতে পারত না।

জামাল খাসোগির ঘটনাই প্রথম না। শক্তি প্রকাশের জন্য এর আগেও সফরে আসা লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরিকে আটকে রেখেছিল সৌদি। হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেন সৌদির শাসকেরা। হারিরির অপরাধ ছিল ইরান–ঘনিষ্ঠতা। ইরানের ঘনিষ্ঠ কাতারকেও অবরোধ করে শায়েস্তা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সৌদির সেসব কৌশল সফল হয়নি।

কত দিন চলবে এই স্বৈরাচারী শাসন ব্যাবস্থা? সরকার সমালোচকদের যদি এই ভাবে খুন করা হয়, তাহলে আমরা লেখক নিশ্চিত সৌদি তার মর্যদা কে পায়ের নিচে রাখলেন। যুবরাজ মহাম্মদ বিন সালমান হলেন একবিংশ শতাব্দীর আরব্য রাজনীতির নিকৃষ্ট কীট!!