বেকার ব্যবস্থা দুর করতে প্রধানমন্ত্রী কমিটি গঠন করলেন

0
The Prime Minister formed the committee to stop unemployment

টাইমস বাংলা,ওয়েব ডেস্কঃ গত পাঁচ বছরেই নাকি সর্বাধিক হয়েছে বেকারত্ব। আর আর্থিক উন্নয়নই একটি সরকারের কাছ থেকে মানুষের সবথেকে বড় চাহিদা। তাই, ক্ষমতায় এসেই এই দুই ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্র নরেন্দ্র মোদী।

বুধবার এই বিষয়গুলি দেখার জন্য দুটি ক্যাবিনেট কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ভারতে সাম্প্রতিক রিপোর্টে যে অর্থনৈতিক ধীরগতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করবে একটি কমিটি। সেই কমিটিতে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গদকড়ি।
আর বেকারত্ব নিয়ে অন্য একটি কমিটি তৈরি হবে। সেই কমিটিতেও মাথায় থাকবেন মোদীল ১০ জনের সেই কমিটিতে অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল ছাড়াও থাকবেন মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশঙ্ক’, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর, স্কিল অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ মিনিস্টার মহেন্দ্র নাথ পাণ্ডে ও দুই প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাংগোয়ার ও হরদীপ সিং পুরী।
আর মোদী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ঠিক পরের দিন কেন্দ্রের শ্রমমন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুসারে, ২০১৭-১৮ সালে সমগ্র ভারতে বেকারত্বের হার ছিল ৬.১ শতাংশ। যা গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের শহরাঞ্চলের বেকারত্বের হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। আর গ্রামের ক্ষেত্রে সেই হার ৫.৩ শতাংশ। পুরুষ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই হার যথাক্রমে ছিল ৬.২ এবং ৫.৭ শতাংশ।

চলতি বছরের শুরু দিকে এই তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমে। যা নিয়ে মোদী সরকারের সমালোচনার ঝড় ওঠে সমগ্র দেশে। ওই রিপোর্ট নিয়ে আসরে নামে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করেন। একই উপায়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমন করতে শুরু করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আসলে অর্থনীতির গতি চিন্তায় ফেলেছে মোদী সরকারকে। গত জানিয়ারি থেকে মার্চ- এই তিন মাসে জিডিপি বেড়েছে ৫.৮ শতাশ, যা গত পাঁচ বছরে সবথেকে কম। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে জিডিপির হার ছিল ৬.৮ শতাংশ। আর সরকারের লক্ষ্য ছিল ৭.২ শতাংশ। যদিও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক জানাচ্ছে, ভারতের জিডিপি হার আগামী তিন বছরে ছুঁতে পারে ৭.৫ শতাংশ।
এদিকে, বেকারত্বের হারও চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিপুল চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী
মোদী জমানাতেই ১৯৭০-৭১ সালের পরে দেশের বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ হয়েছে এই বিষয়টি মানতে নারাজ ছিল কেন্দ্র। তবে ফাঁস হয়ে যাওয়া রিপোর্ট যে ভুল নয় সেটিও মেনে নেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে কেন্দ্রের যুক্তি ছিল শ্রমমন্ত্রকের যে রিপোর্ট সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেটি সমীক্ষার খসড়া মাত্র। চূড়ান্ত রিপোর্ট নয়। বৃহস্পতিবার সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট সামনে এসেছে। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। শুরুর দিন থেকেই বিরোধীদের তোপে মুখে পড়তে শুরু করেছে মোদী সরকার।