এবার সিএএ নিয়ে মুখ খুললেন দারুল দেওবন্দের শিক্ষকবর্গ

0
This time, Darul Deoband's teachers opened with CAA

নিউজডেস্ক, টাইমস্ বাংলাঃ বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতা দখলের পর একের পর এক মুসলীম বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহন করেই চলছে,তিন তালাক আইন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রভৃতি। প্রজাতন্ত্র দিবসের এক অনুষ্ঠানে দারুল দেওবন্দের শিক্ষকবর্গ অভিমত প্রকাশ করেন, এবার তারা আর বসে থাকবেন না।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে মাওলানা আব্দুল আব্বাস বলেন, আমরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের সমর্থন করছি। কিছু শক্তি দেশ ভাঙতে চায়, তবে আমরা এটি হতে দেব না। দেশ বিভাজনকারী শক্তিগুলোকে তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, আজ প্রজাতন্ত্র দিবসে আয়োজিত এক কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসিম নোমানী বলেন, দেশে যে পরিস্থিতি চলছে তা কারও কাছে গোপন নয়। সরকারের নাম না উল্লেখ করে মুফতি নোমানী বলেন, কিছু শক্তি সংবিধান থেকে সরে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী উপায়ে দেশ চালাতে চাচ্ছে।

দারুল উলুমের সিনিয়র ওস্তাদ শায়খুল হাদীস মাওলানা সালমান বিজনৌরি বলেন, দেশে যেভাবে সচেতনতা এসেছে, তা থেকে ওই শক্তিগুলো শিক্ষা পাবে যারা দেশকে সংবিধানের পথ থেকে দেশকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি’র (এনআরসি) বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ- বিক্ষোভকে ন্যায়সঙ্গত মনে করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান আমাদের এই অধিকার দিয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এদেশে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্শিদের নাগরিকত্ব দিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) তৈরি করেছে। এক্ষেত্রে মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। এভাবে নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাকে বৈষম্যমূলক অভিহিত করে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।

মুসলিম নারীরা ভারতের দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি’র (এনআরসি) বিরোধিতায় একটানা ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে এরইমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ‘সিএএ-এনআরসি’তে কারও প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন,কেড়ে নেওয়ার আইন নয়।কিন্তু অনেকেই এই বক্তব্যকে মিথ্যা এবং এই আইনকে চক্রান্ত বলেই মনে করেন।