বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু

0

প্রাবাল আদিত্য, টাইমস্ বাংলা, ঢাকা: বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত দুটোর তালিকাই দীর্ঘ হচ্ছে। ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৩ জন মারা গেছেন। যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯৯ জনে। একই সময়ে আরও ৭০৬জন নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২হাজার ৪২৫জন। ২৪ মে ঈদ হবার কথা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ১০ মে মার্কেট, শপিংমল, দোকানপাট খুলবে। রাজধানবাসী ছাড়াও ঢাকার পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে মোটরবাইকসহ নিজস্ব যানবাহনের প্রচুর লোকজন কেনাকাটা করতে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে ভিড় জমাবে। এখনই রাজধানীর আশাপাশের এলাকার মানুষজন নিয়মিত বিভিন্ন যানবাহনে ঢাকায় আসছেন এবং কাজ শেষে ফিরে যাচ্ছেন। ঈদকে সামনে রেখে সকল শ্রেণীপেশার মানুষ অর্থের যোগানের আশায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন। দিন যতই গড়াবে, লোকজনের সংখ্যা ততই বাড়বে। কাজ করতে গিয়ে এবং ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝে সামাজিক দূরত্ব কতটুকু রক্ষা করা সম্ভব, তা নিয়েই আশঙ্কার দৈত্যটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠক থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ লকডাউনমুক্ত এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসাধারণকেও সহযোগিতার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

সচিবালয়ে সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বলেন, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে সরকারি তরফে বিভিন্ন এজেন্সিকে খুব কড়াকড়িভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। জনসাধরণকেও সচেতন হতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বাস্থ্যবিধিগুলো সঠিকভাবে মানতে হবে। তা না হলে করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখা দুষ্কর হবে। আজও দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মা পারি দিচ্ছেন হাজারো মানুষ। ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও শ শ মোটরসাইকেল যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। মানুষ যেমন ঢাকায় আসছেন, ঠিক তেমনি ঢাকা থেকে বাড়িও ফিরছেন। যাত্রীদের চাপে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দূরের কথা, ফেরিঘাটের পল্টুনে পা রাখারও জায়গা নেই। করোনার কারণে ২৫ মার্চ থেকে দেশে সব ধরনের গণপরিবহন ও জলপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধসহ জরুরিপণ্য পরিবহণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে স্বল্প পরিসরে ৬টি ফেরি চলাচল করছে।

প্রতিটি ফেরিই ঢাকামুখো মানুষে ঠাঁসা। বিকালে যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেলে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ ফেরিতে পারাপার হচ্ছে। দিনের বেলা দুটি বড় ও চারটি ছোট ফেরি চলাচল করলেও রাতে পণ্যবাহী ট্রাক বেড়ে যায়। তখন ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা একটি মেগাসিটি। এর জনসংখ্যা প্রায় দেড় ১ কোটির ওপরে। ৩০০ বর্গকিলোমিটারের মহানগরীকে কেন্দ্র করে বিশেষত দ্রুত জনবিষ্ফোরণের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে এর জনসংখ্যা ৩ কোটি ছুঁয়ে যেতে পারে। ঢাকায় প্রতি বর্গমাইলে প্রায় দেড় লাখ লোকের বসবাস। দিল্লি, মুম্বইয়ের পরেই এর স্থান। জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরী।