সভা-ছুটদের ছবি তোলায় ভাঙড়ে শাসক দলের হাতে নিগৃহীত দুই সাংবাদিক

0

টাইমস্ বাংলা ওয়েব ডেস্ক: সভা ছেড়ে যাওয়া সমর্থকদের ছবি তুলতে গিয়ে শাসক দলের এক শ্রেণির কর্মীদের হাতে নিগৃহীত হলেন দুই তরুণ সাংবাদিক। এমন, তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে পুলিশও অমানবিক ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বিকালে ভাঙড় ১-এ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ডাকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সভা চলছিল। ঘটকপুকুর হাই স্কুল মাঠে তখন উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী, যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি সওকাত মোল্লা, ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম, ভাঙড় ২ তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অহিদুল ইসলামসহ ভাঙড় ১ ও ২ ব্লকের নেতৃত্ব। এদিন সভার শুরু থেকেই সভাস্থল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায় অনেককে। জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীও যখন বক্তব্য রাখছেন, তখনও সভাস্থল ছেড়ে যেতে দেখা যায় অনেকে। সেমসয় কিছূ সমর্থক শুভেন্দু অধিকারীর নামেও জয়ধ্বনি দেন। সেই ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে গিয়েই তৃণমূলের রোষানলে পড়েন আপনজন পত্রিকার সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে ও আর এক সাংবাদিক আবদুর রহমান কাজী। জেলা নেতৃত্বের সামনেই কেন সভা ছেড়ে চলে যাওয়া মর্থকদের ছবি তোলা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে কয়েকজন তৃণমূল কর্মী অতর্কিতে এই দুই তরুণ সাংবাদিককে হেনস্থা করতে শুরু করে।
এই অতর্কিত আক্রমণে সাদ্দাম হোসেন মিদ্দে ও আবদুর রহমান কাজী অল্প বিস্তর আহত হয়েছেন। অভিযোগ, চশমা ভেঙে যায় সাদ্দাম হোসেন মিদ্দের। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয় আব্দুর রহমান কাজীর।
প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশ ওই দুই সাংবাদিকরক উদ্ধার করলেও তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সুখকর নয়। উদ্ধারের নামে কার্যত তাদের ‘আটক’ করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। লককাপের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। সাংবাদিকরা জল চাইলেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পুলিশের এই ’অমানবিকতা’ নিয়ে ভাঙড় থানার ওসি সমরেশ ঘোষ কার্যত সাংবাদিকদের উপরেই দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। ওসি সাংবাদিকদের সাবধান করে দিয়ে বলেন, ঘটনা নিয়ে বেশি দূর না এগোনোই ভালো। কোন উদ্দেশ্যে তৃণমূলের সভা ছেড়ে যাওয়ার ছবি তোলা হচ্ছিল সেই প্রিশ্ন তোলেন। পুলিশের এই অমানবিক ব্যবহারে মর্মাহত তরুণ দুই সাংবাদিক।
সৌজন্যেঃ আপনজন পত্রিকা