জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবী মার্কিন সংস্থার

0
US agency demands release of political prisoners in Jammu and Kashmir

নিউজডেস্ক, টাইমস্ বাংলাঃ বিজেপি সরকার জম্মু-কাশ্মির থেকে ধারা ৩৭০ অপসারণ করেছে গত বছর আগষ্ট মাসে তার পরথেকে কাশ্মীরকে সার্বিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিকে ধংশ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিক সমালোচনা করে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস জম্মু-কাশ্মীরে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেয়ার জন্য ভারত সরকারের নিকট আহ্বান জানিয়েছেন।

অ্যালিস বলেন, ‘ইন্টারনেট পরিসেবা আংশিক ফিরিয়ে আনাসহ জম্মু-কাশ্মীরে সম্প্রতি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। সেইসঙ্গে ভারত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের কূটনীতিকদের নিয়মিত সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সেখানে যে সমস্ত রাজনীতিককে বন্দি করা হয়েছিল, এবার ধীরে ধীরে তাদের মুক্তি দেওয়ার পথে এগোক ভারত।’

সম্প্রতি ১৫টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর সফর করেন অ্যালিস ওয়েলস। শুক্রবার ওয়াশিংটনে করা তাঁর ওই মন্তব্যে কার্যত ভারতকে চাপ সৃষ্টি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অ্যালিস কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি দেশে চলমান সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিয়ষ উল্লেখ করে বলেন, কাশ্মীর সফর ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ নিয়েও অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছে। এই মুহূর্তে ভারত গণতান্ত্রিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীরা সব রাস্তায় নেমে এসেছেন। গণমাধ্যমে তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে বিষয়টি। আইনত সকলের সমান সুরক্ষাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি জানুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, মরক্কো, ফিজি, নরওয়ে, ফিলিপিন্স, আর্জেন্টিনাসহ ১৫টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেই দলে শামিল ছিলেন অ্যালিস ওয়েলস। গত বছর অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত বছর ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ করাসহ কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষজনকে আটক অথবা বন্দি করা হয়। এ নিয়ে দেশে ও বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে সাফাই দিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেখানকার পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহল নজর রেখেছে অ্যালিস ওয়েলসের সাম্প্রতিক মন্তব্য তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।