ইরাণের সাথে আমেরিকার উত্তেজনা সত্ত্বেও যুদ্ধ হবেনা,ইংগিত উভয় পক্ষের

0
War against Iran will not be fought despite the tension in America, both sides indicate

নিউজডেস্ক,টাইমস্ বাংলাঃ  ইরাণের উপর আমেরিকা সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করলে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছায়।এরই মধ্যে ইরাণ বলেছিল, তারা আক্রান্ত হলে প্রত্যাঘাত করতে প্রস্তুত এবং এক তরফা ভাবে তারাও পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে বাধ্য নয়।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ পরিকল্পনার খসড়া হাতে নিলে এবং কাতারের বিমান ঘাঁটিত বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করলে যুদ্ধের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়।এই আমেরিকা ইরাণের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না সেটা স্পষ্ট করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।অন্যদিকে ইরাণের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খোমেনি বলেছেন,উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ হচ্ছেনা।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আমেরিকার সঙ্গে তার দেশের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠা সত্ত্বেও যুদ্ধের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন জানে এ ধরনের সংঘর্ষ তার স্বার্থের অনুকূলে যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেছেন, এখন আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার অর্থ হবে বিষপান করা।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্ট স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্যগণসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সঙ্ঘাত সামরিক পর্যায়ে যাবে না এবং আসলে কোনো যুদ্ধই হবে না।  তিনি বলেন, আমেরিকার মোকাবিলায় ইরানি জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ সংঘাতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটতে বাধ্য হবে। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “আমরা কিংবা তারা, যারাই মনে করে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাবে না তাদের কেউই যুদ্ধ চায় না।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, তার দেশ ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যেতে চায় না। আমেরিকা যখন মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক রণতরী পাঠিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে চলেছে তখন এ বক্তব্য দিলেন পম্পেও। তিনি রাশিয়া সফরে গিয়ে মঙ্গলবার বন্দরনগরী সোচিতে বলেন, “আমরা মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেতে চাচ্ছি না।”

 

[আরও পড়ুন :   বিজেপি ছেড়ে আক্রমণাত্নক আইটি সেল প্রতিষ্ঠতা প্রদ্যুত বোরা ]
[আরও পড়ুন :   শিশুর প্রাণ বাঁচাতে নিজেই বিমানের ব্যবস্থা করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ]

 

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে একথাও বলেন, মার্কিন স্বার্থে আঘাত আসলে ওয়াশিংটন উপযুক্ত উপায়ে তার জবাব দেবে।
মাইক পম্পেও ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না যাওয়ার কথা জানালেন। তিনি সোমবার রাশিয়া সফরে যাওয়ার পথে ব্রাসেলসে অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি করেন। ইউরোপীয়  দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরকে ইরান বিরোধী পদক্ষেপে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তিনি ওই যাত্রাবিরতি করলেও ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পম্পেওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণ এই যুদ্ধ উপসাগরীয় যুদ্ধের মত মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রেরর অনুকূলে যাবে না।যুদ্ধের ব্যাপ্তি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য ছড়িয়ে যেতে পারে।