কেন এত ক্রোধ সুষমার উপর?

0

মহম্মদ ঘোরী শাহ্,টাইমস্ বাংলাঃদীর্ঘদিন ধরেই বিষাক্ত পার্থেনিয়ামের জঞ্জাল স্তুপকৃত করা হচ্ছে সমগ্র ভারতময়।আর সেই জঞ্জালের স্তুপে মাঝে মাঝে বিজেপি সাংসদ -বিধায়কগন অসহিষ্ণুতার অগ্নি স্ফুলিঙ্গ ছুঁড়ে মারছিলেন।এর ফলে প্রাশয়ই বিভিন্ন গোষ্টীর মানুষদের বিশেষকরে সংখ্যালঘু ও দলিতদের জীবন্ত ঝলসে যেতে বা ভষ্মীভূত হতে হয়েছে।সেই জঞ্জাল হতে নির্গত বিষবাষ্পে একদিন কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মুখ ঝলসে যাবে, এটা তিনি স্বয়ং ভেবেছিলেন কি?
দেশ যখন কেবল গো রক্ষা ও লাভ- জিহাদের রাজনীতিই উত্তাল,এই ইস্যুতে প্রাণ গেছে বিগত চার বছরে বহুজনের, নির্যাতিত হতে হয়েছে ততোধিক মানুষ অথচ প্রধান মন্ত্রী তাঁর আর এস এস’র খোলস হতে এক মূহুর্তের জন্যও বের হতে পারলেন না, তখন মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মন্ত্রী সুলভ আচরণ যে গোরক্ষক ও লাভ জিহাদ হতে দেশরক্ষাকারীদের গাত্রজ্বালা লাগবে এটাই স্বাভাবিক।
ঘটনার সুত্রপাত হয়েছিল লখনউর এক পাসপোর্ট অফিসে।কিছুদিন পূর্বে এক দম্পতি বিদেশ যাত্রার জন্য নিয়মানুসারে পাশপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন।কিন্তু অফিসার তাঁদের পাশপোর্ট দিতে অস্বীকার করেন,কারন আবেদনকারীর হিন্দু মহিলার স্বামী ছিলেন একজন মুসলিম।এখানেও ঘটল সেই লাভ জিহাদে সৃষ্ট বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন।কিন্তু ঐ দম্পতি বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বারাজের নিকট অভিযোগটি পৌঁছে দিলেন।সাংবিধানিক পদে থেকে মন্ত্রী অভিযুক্ত অফিসারকে বদলি করে মন্ত্রকের সৌজন্যস্বত্ব বজায় রেখেছিলেন।
এতটুকুই যথেষ্ট, এরপর শুরু হয়েযায় সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভের অকথ্য উৎগীরণ।মন্ত্রী সম্পর্কে ব্যয়িত শব্দ সমূহকে কোন ভাবেই বাক্ স্বাধীনতার দাঁড়িপাল্লায় রাখা সমীচীন নয়।লক্ষ লক্ষ কূরুচীকর মন্তব্য একজন সাধারণ মানুষকে নয়,সগোত্রীয় মন্ত্রীকে অনায়াসে কূচলে দিল।এই তীব্র মন্তব্যসমূহ যে কতটা উত্তেজনাময় তা আখলাখরাই জানে।
সুতরাং এমতোবস্থায় দেশ যে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে  বিজেপি নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণে না হলেও মন্ত্রী  হিসাবে উপলব্ধি করা যায় বৈকি।সমর্থকদের কাছে ‘বিজেপি’ই সব কিছু,আর সব যেমন অধিকার, আইন- কানুন কমপক্ষে নুন্যতম সৌজন্য বোধ টুকুও যেন মূল্যহীন।বিভেদের জল সিঞ্চনে লালিত বিষবৃক্ষ যে কেবল বিষবাষ্পই ছড়াই এটা তিনি বুঝলেন তো?